প্রার্থিতা ফিরে পেতে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। অন্যদিকে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার করা আবেদনও আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন।
গতকাল প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ পৃথক দুই আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। এ আদেশের ফলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী মো. মোবাশ্বের আলম থাকছেন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তাকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক প্রার্থীর লিভ টু আপিল আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। তবে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করেননি সর্বোচ্চ আদালত।
কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রাথমিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু তার হলফনামায় ঋণ খেলাপের তথ্য গোপন করেছেন, এমন অভিযোগ এনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
গত ১৭ জানুয়ারি ইসি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৯ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট করেন মঞ্জুল আহসান মুন্সী। প্রাথমিক শুনানির পর ২১ জানুয়ারি রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন উচ্চ আদালত। ফলে ইসির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে ২২ জানুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন তিনি। পরে আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে লিভ টু আপিল করেন।
গত ৩০ জানুয়ারি এতে শুনানির পর গতকাল তা খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। আদালতে মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মোহাম্মদ হোসেন।
পরে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মঞ্জুরুল আহসানের লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।’
কুমিল্লা-১০ : লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলা নিয়ে কুমিল্লার এ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে মনোনয়ন না দিয়ে আবুদল গফুর ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। প্রাথমিক যাচাইবাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। পরে তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজী নুরে আলম সিদ্দিকী। ১৮ জানুয়ারি শুনানির পর গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট করেন তিনি।
গত ২২ জানুয়ারি হাই কোর্ট তার রিট সরাসরি খারিজ করে দেন। এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে পরে লিভ টু আপিল করেন তিনি। গত ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি এর ওপর শুনানি হয়। গফুর ভূঁইয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও বি এম ইলিয়াস কচি। নুরে আলম সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। গতকাল সেই আবেদন খারিজ হওয়ায় তিনি নির্বাচন করতে পারছেন না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নুরে আলম সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।
অন্যদিকে ঋণ খেলাপের অভিযোগ ও দলীয় চিঠি দেখাতে না পারায় গত ৪ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সেটি নামঞ্জুর করে ইসি। এরপর তিনি ইসির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট করেন। গত ২৫ জানুয়ারি হাই কোর্ট রুল দিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিনই তিনি ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পান। হাই কোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হাসান আহমেদ।
গত ৩০ জানুয়ারি এতে শুনানি হয়। আদালতে হাসান আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। মোবাশ্বের আলমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আখতার ইমাম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব এবং আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও এস এম শামীম হোসেন। ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাই কোর্টের আদেশের আইনগত যৌক্তিকতা পরীক্ষার জন্য আবেদনকারীকে আপিল করার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু হাই কোর্টের আদেশে কোনো স্থগিতাদেশ দেননি আপিল বিভাগ। ফলে হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশ বহাল আছে। মোবাশ্বের আলম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারছেন।’