Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও বইছে নির্বাচনি হাওয়া। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীরা ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তবে এবারের নির্বাচনে লড়াইয়ের সমীকরণ ভিন্ন। কারণ এবার নির্বাচনি মাঠে নেই কার্যক্রমনিষিদ্ধ পতিত আওয়ামী লীগ। তাই সাবেক দুই রাজনৈতিক মিত্রের সঙ্গেই এবার হচ্ছে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফলে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থীরাই এবার মুখোমুখি নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায়।

উভয় দলই চট্টগ্রামে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে এবার ৫টি আসনে বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বাকি ১১টি আসনে বিএনপি জনসমর্থন ও সাংগঠনিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের পাল্লা ভারী করার চূড়ান্ত চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ বন্দর আসনে দলীয় প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সারা দেশে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির প্রতি দেশের জনগণের আস্থা আছে। সেই আস্থার ভিত্তিতেই চট্টগ্রামের ১৬ আসনের ভোটাররা এবার বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, দেশের জনগণ আর পুরোনো ধারায় ফিরতে চায় না। জনগণ নতুন বন্দোবস্তের অপেক্ষায় আছে। যার প্রতিফলন হবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। চট্টগ্রামের প্রত্যেকটি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের ভোট বিপ্লব হবে।

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রচার চলছে তুমুলভাবে। পথে পথে ব্যানার, চলছে মাইকিং ও মিছিল। এসব কারণে ভোটারদের মাঝে তৈরি হয়েছে এক ধরনের নির্বাচনি উৎসবের আমেজ। আবার কিছু এলকায় সংঘাত-সহিংসতার কারণে ওই এলাকায় ভোটের পরিবেশ নিয়ে বিরাজ করছে শঙ্কাও। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন চট্টগ্রামে সিটি করপোরেশেন ও উত্তরের আসনগুলোতে রয়েছে প্রায় ৬৬ লাখ ভোটার। এর মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীদের সমর্থকদের আধিক্য বেশি বলে মনে করছেন তারা। তবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আসনগুলোতে বিএনপি জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি হবে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের। চট্টগ্রাম উত্তরে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও বিভিন্ন আসনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিতদের অসন্তোষ ও কোন্দল রয়েছে। এ ছাড়া দুইটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীও আছে বিএনপির। পক্ষান্তরে চট্টগ্রামের সবগুলো আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান ততটা মজবুত না হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই জামায়াত নির্বাচনি মাঠে তৎপর থাকায় ভোটারদের একটা অংশের কাছে তাদের সমর্থনও বেড়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গত দেড় বছরে বিএনপি নেতাদের কিছু নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের কিছুটা সমর্থন বেড়েছে। এসব কারণে অন্তত পাঁচ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপি এবং জামায়াত জোটের প্রার্থীর মধ্যে। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), এ আসনে লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিনের সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, হালিশহর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের সঙ্গে জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালীর, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপির জসিম উদ্দিন আহমদের সঙ্গে এলডিপির ওমর ফারুকের, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির নাজমুল মোস্তাফা আমিনের সঙ্গে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরীর এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার সঙ্গে জামায়াতের জহিরুল ইসলামের লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। তবে চট্টগ্রামের বাকি ১১ আসনে নির্ভার রয়েছেন বিএনপি জোটের প্রার্থীরা। এর মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনে মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে গিয়াস কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ বোয়ালখালী চান্দগাঁও আসনে এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি আসনে আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১১ বন্দর আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে এনামুল হক এবং চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম।