টুডে রিপোর্ট
ফেসবুকে আবারও চাঞ্চল্যকর একটি দাবি ছড়িয়েছেন বিএনপির কনটেন্ট টিমের পরিচিত মুখ ড. সাইমুম পারভেজ। তিনি দাবি করেন, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে এক বিএনপি নেতাকে “জামায়াতের সন্ত্রাসীরা” হত্যা করেছে। তিনি তার পোস্টে লিখেন, “জামায়াতের সন্ত্রাসীদের সঠিক বিচার দাবি করছি। “কিশোরগঞ্জ ২ আসনে কটিয়াদি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বার মোঃ কামাল উদ্দিনকে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা আজ সন্ধ্যায় আক্রমণ করে, কিছুক্ষণ আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। হত্যাকারী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, আচমিনা ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য। এই হত্যাকান্ডের সুবিচার নিশ্চিত করতে আওয়াজ তুলুন।”
কিন্তু বাস্তবতা বলছে—এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, নিহত মো. কামাল উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক হামলার শিকার নন। তিনি ছিলেন আচমিতা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপির সাবেক সভাপতি। তাঁর মৃত্যু হয়েছে জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজের ভাই ও ভাতিজার সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে। মানবজমিন এবং সময়ের আলোতে এই বিষয়ে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
মানবজমিনের খবর বলছে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ভাইয়ের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা ও ছেলে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছে। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো- আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বার মাহমুদুর রহমান কামাল (৫৫) ওরফে কামাল ও তার ছেলে কাকন (১৮)।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভাতিজার আঘাতে গুরুতর আহত হন কামাল উদ্দিন। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। ঘটনায় জামায়াত বা রাজনৈতিক হামলার কোনো প্রমাণ নেই।
তবুও সাইমুম পারভেজ সামাজিক মাধ্যমে জামায়াতকে দায়ী করে পোস্ট দেন—যেখানে নেই পুলিশি তথ্য, নেই পরিবার বা প্রশাসনের বক্তব্য।
সাইমুম পারভেজ বর্তমানে বিএনপির প্রচার বিভাগের কন্টেন্ট টিমের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি অজস্র গুজব সবর্স্ব ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করেন বলেও একটি সূত্র বলছে।