Image description
 

একটি দল বেপরোয়া ও সংঘাতমুখী পথে অগ্রসর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।

সাদিক কায়েম লিখেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ প্রত্যাশিত হলেও, দুঃখজনকভাবে একটি দল বেপরোয়া ও সংঘাতমুখী পথে অগ্রসর হচ্ছে। একটি নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন এবং একটি সহনশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

‘কিন্তু আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করছে। মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হিজাব নিয়ে উসকানিমূলক টানাটানি, প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের হুমকি ও বর্বর হামলা, এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংস আচরণ—এ ধরনের অসংখ্য ঘটনার মাধ্যমে দলটি পুরো নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে,’ লিখেন তিনি।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের নির্বিকার ও পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান পুরো বাংলাদেশের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শক্ত অবস্থান গ্রহণের পরিবর্তে প্রশাসন কার্যত একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একইসঙ্গে, গণমাধ্যমের একাংশও পাক্ষিক ভূমিকা রেখে সংঘাতমুখী রাজনীতিকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে।’

তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকা–৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর চাঁদাবাজদের দ্বারা বর্বর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্তত ১৩ জন জনশক্তি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তি বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর আঘাত নয়—এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর সরাসরি হুমকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপরোক্ত সকল ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, যারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সংঘাতময় করে তুলতে চায়, তারা রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা বাংলাদেশের আপামর ছাত্রসমাজ ও সচেতন জনতার প্রতি আহ্বান জানাই—আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান বজায় রাখুন।’

আগামী নির্বাচনে গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবং ইনসাফের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের মধ্য দিয়েই আমরা একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।