অর্থ আত্মসাতের আরেকটি মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৩৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন। ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব ‘এ এম ট্রেডিং’ প্রতিষ্ঠানের নামে এই ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ঋণ বিতরণের নামে অর্থটি এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস।
এছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মাররিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যরা পলাতক বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, শুনানিকালে কারাগারে থাকা দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন জানানো হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে চার্জ গঠনের আদেশ দেন।
চার্জ গঠনের সময় নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরে মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালত–৫ এ পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, একই আসামিদের বিরুদ্ধে মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড কোং নামের আরেক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৯ জানুয়ারি আরও একটি মামলায় চার্জ গঠন করেন আদালত।
শীর্ষনিউজ