মুফতি আলী হাসান উসামা কেন নতুন ঠিকানায়? ছিলেন তো খেলাফত মজলিসে। ১০ দলের শরিক দল। প্রার্থী হয়েছিলেন সিলেট-৪ আসনে। প্রতীকও ছিল দেওয়াল ঘড়ি। ভোটে মাঠ থেকেই চলে গেলেন নতুন ঠিকানায়। যোগ দিলেন জামায়াতে ইসলামীতে। তাকে ঘিরে এন্তার আলোচনা। কেন এমনটি করলেন মুফতি উসামা। কওমি ঘরানায় তো তার কদরের কমতি ছিল না। বরং সিলেটের ওয়াজ মাহফিলে তাকে ঘিরে উৎসাহ ছিল। যেকোনো ওয়াজে আয়োজকরা বক্তা হিসেবে তাকে চাইতেন। ১৭ই জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দিলেন উসামা। তখনো
তিনি সিলেট-৪ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী। তবে আলোচনায় নেই। সিলেটে ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে দু’টি আসন নিয়ে দরকষাকষি করছিল খেলাফত মজলিস। এর মধ্যে একটি সিলেট-২ ও অন্যটি সিলেট-৫। এ দু’টি আসনে খেলাফত মজলিস জোটের সমর্থন পেয়েছে। প্রথমে দলটি চেয়েছিল তিনটি আসন। এর মধ্যে সিলেট-৪ আসন ছিল।
মুফতি উসামা খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হওয়ার পর তিনি তফসিল ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় ছিলেন। কয়েকটি সমাবেশ করেছেন গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে। ভোটের মাঠে পেয়েছেন সাড়াও। তবে হঠাৎ করেই নীরব হয়ে পড়েন তিনি। এলাকায় নেই, প্রচারণাও কম। ফলে তাকে ঘিরে শুরুতে ভোটের মাঠে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল সেটি ধীরে ধীরে কমে যায়। এ কারণে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে শেষ লড়াইয়ে তাকে আলোচনার টেবিলে রাখার সুযোগ পায়নি। আসনটিতে শক্তিশালী প্রার্থী হচ্ছেন জামায়াতের জেলার সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। আর বিএনপি’র প্রার্থী সিলেটের সাবেক মেয়র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী।
এ আসনে খেলাফত মজলিসের ভোটব্যাংকও কম। ফলে সব মিলিয়ে খেলাফত মজলিসের নেতারা তাকে নিয়ে ভোটের মাঠে বাজি ধরতে গেলেও ভোটের পরিসংখ্যান পিছিয়ে দেয়। সূত্র বলছে; জানুয়ারি জুড়ে প্রথমে ১১ দল এবং পরে ১০ দলীয় জোটে যখন আসন ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে চূড়ান্ত দরকষাকষি শুরু হয় তখন উসামা দলের ভেতরে নিজের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন। তার আসনেই তিনি জোটের সমর্থন চান। তবে তার এ দাবিকে কখনো উপেক্ষা করেননি খেলাফত নেতারা। বরং জোটের আলোচনায় তাকে সব সময় রাখেন। এ কারণে সিলেট জেলায় প্রথমে তারা যে তিনটি আসন রেখেছিলেন সেই আসনগুলোর মধ্যে মুফতি উসামার আসনও ছিল। যখন ১০ দলীয় জোটের আলোচনায় উসামার আসন চূড়ান্ত লড়াইয়ে টিকেনি তখন এককভাবে নির্বাচন করার দাবি তুলেন প্রার্থী নিজেই।
এ আসনটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে তিনি আবদার জানান। এ আলোচনায় গিয়েও খেলাফত মজলিসের নেতারা দাবি আদায় করতে পারেননি। এতে বেঁকে বসেন মুফতি উসামা। হাতে সময় ছিল না। সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত। তখনই তিনি খেলাফত মজলিস ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তবে জামায়াতে যোগ দেয়ার আগে তিনি খেলাফত মজলিস থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর যোগ দেন জামায়াতে। তার এই চলে যাওয়া নিয়ে খেলাফত মজলিসের নেতারা প্রকাশ্যে কোনো ক্ষোভ জানাননি। বলেননি কোনো কথাও।
গতকাল এ ব্যাপারে জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মো. দিলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন- কী কারণে মুফতি উসামা দল ছাড়লেন তারা জানেন না।
তিনি বলেও যাননি। চলে যাওয়া তার সিদ্ধান্ত। এদিকে খেলাফত মজলিস ছেড়ে উসামার জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয়ার ঘটনা নিয়ে নীরব ভূমিকম্প হয়েছে কওমি অঙ্গনে। এ নিয়ে এক মাহফিলে ক্ষোভ জানিয়েছেন কওমি অঙ্গনের সিলেট অঞ্চলের মুরুব্বি হযরত মাওলানা নুরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী।
ওই মাহফিলে মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন; ‘আমি আগেই ওকে নিয়ে সন্দেহ করেছিলাম। তোমরা তখন শুনোনি।’ মুফতি আলী হাসান উমাসা শুরুর দিকে সিলেটেই পড়ালেখা করেছেন। পিতার সূত্র ধরে তার বাড়ি সিলেট শহরতলীর এয়ারপোর্ট এলাকায়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন। ২০২৪ সালের ৯ই অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি দলের উলামা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।