Image description

বাংলাদেশের আইন যতটুকু জানি, আদালতের কাছে প্যারোলে মুক্তি চাইলে মুক্তি দেওয়া হয়। এমনকি বহু ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিও প্যারোলে মুক্তি নিয়ে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছে। গত দেড় বছরে ছাত্রলীগের অনেক আসামিকেও প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিভিন্ন আপনজনের জানাজায় শরিক হতে দেখেছি।

এই তো সাত দিন আগে, গত ১৭ জানুয়ারি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের পৌর আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক মেয়র মাহফুজুল হক তার মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান।

এর এক সপ্তাহ আগে, ১০ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রিয়াদ খান প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবা শহীদুজ্জামান খানের জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন।

গত ২৫ নভেম্বর রাজবাড়ীতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার যুবদল নেতা সাইদুল ইসলাম ওরফে তাজেল।

গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. আব্দুর রাজ্জাক রাজা।

আজ বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে ফেসবুকে একটি বিশাল ক্যাম্পেইন চলছে দেখে, এই সংক্রান্ত খবরগুলো দেখছিলাম।

অধিকাংশ খবরে স্পষ্ট করে লেখা আছে, পরিবার থেকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়নি। জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে বলা হলে তিনি আদালতে যেতে বা জেলারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। জেলারের সঙ্গে কথা বলায় জেলারের বক্তব্য ছিল, প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেখালে তিনি মুক্তি দিয়ে দেবেন।

কিন্তু পরিবার এমন কোনো লিখিত আদেশ দেখাতে পারেনি। জেল কর্তৃপক্ষ মানবিকতা দেখিয়ে তাদের কারা ফটকে দেখা করার সুযোগ দেয়। কোনো জেলার আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আসামীকে কারাগারের বাহিরে পাঠাতে পারেন না, এটা করলে কোনো অঘটন ঘটলে তার চাকরি যাবে।

এখানে দোষটা কার? আদালতে চাওয়ায় সাত দিন আগেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এখন কেন দেওয়া হবে না? আদালতে আবেদন না করে কেন ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে? ভিকটিম কার্ড ও মানবিকতার কার্ড কেন খেলা হচ্ছে?

কি উদ্দেশ্যে?

আপনাদের কাছে ভিন্ন কোনো তথ্য থাকলে জানাবেন। আমি ঘাঁটাঘাঁটি করে যা পেয়েছি, তা দিয়েই এই মূল্যায়ন করেছি।