Image description

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি জনরায়ে সরকার গঠন করতে পারলে প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ সময় শিক্ষকদেরও যোগ্য করে গড়ে তোলা হবে, যাতে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার ভিত্তি ভালোভাবে গড়ে ওঠে। সেজন্য তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চাকে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে চান। তিনি শিশু-কিশোরদের অনলাইন আসক্তি ঠেকাতে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেছেন।

গতকাল রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নিয়ে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তরুণদের ভাবনা, শিক্ষা, সমাজ এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান ও তাঁর মেয়ে জাইমা রহমান। বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় আড়াই হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। জনমত ও জুরি বোর্ডের মূল্যায়নের মাধ্যমে সেখান থেকে ১০ জন বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপির এ শীর্ষনেতা বলেন, রোড ডিজাইনিং, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং চাকরি; সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে ওঠায় দিন দিন ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। বিএনপি সরকারে গেলে ঢাকার বাইরে সব ধরনের সুযোগসুবিধা সংবলিত স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সব সুবিধা সেখানে থাকবে। এ বিষয়ে বিশদ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কোমলমতি শিশুদের ওপর থেকে চাপ কমাতে পড়ালেখার পদ্ধতি আরও সহজ করতে হবে। পড়ালেখাকে ‘ফান’ হিসেবে আনতে হবে, যাতে বাচ্চারা এতে আগ্রহী হয়। আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, খেলাধুলাকেও শিক্ষায় যুক্ত করব। তিনি জানান, ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতিতে শুধু বইয়ের পড়া নয়, খেলাধুলাতেও পাস করার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে শিল্প ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, শিশুরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, তাহলে তাদের সময়ের বড় একটি অংশ গঠনমূলকভাবে কাটবে। এতে অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও অনলাইন আসক্তি কমানো সম্ভব। এতে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা থেকে ঠেকানো যাবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে আলাদা টিম করে কাজ করা হবে। সামাজিক অবক্ষয় ও মব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ন্যায়-অন্যায়ের শিক্ষা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, শিক্ষকদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। বাচ্চাদের সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। ছোটবেলা থেকেই সামাজিক ন্যায়নীতি ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। শিশুদের নিয়ে বিএনপির আলাদা বিশেষ পরিকল্পনা আছে।

তিনি বলেন, সরকারের অনেক প্রকল্প চালু আছে। কিন্তু সংগঠিত না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এ সুবিধাগুলো আমরা এক জায়গায় আনতে চাই। 

তারেক রহমান বলেন, জনসংখ্যা বাড়ছে, প্রোডাকশন বাড়াতে হবে। উৎপাদনকারীর সঙ্গে ক্রেতার মধ্যে বিভিন্ন জন কাজ করেন। এটি স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু অনৈতিকভাবে কেউ লাভ করতে চাইলে তা ঠেকাতে হবে। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায়ও দ্রব্যমূল্য বাড়ে অনেক সময়। কৃষককে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যে পরিকল্পনাই করি না কেন সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি রোধ করতে হবে। এগুলো ঠিক করা গেলে অন্য বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাবে।

নগরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রোড ডিজাইনিং, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং চাকরি; সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে ওঠায় ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলব। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সব সুবিধা সেখানে থাকবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ চলছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্লাইওভার হয়েছে, মেট্রোরেল দেখছি। মেট্রোরেল ব্যয়বহুল এবং জায়গা বেশি নেয়। এ ক্ষেত্রে মনোরেল সুবিধা। ছোট ছোট বগি এবং মেট্রোর সঙ্গে ঢাকার সব জায়গায় এটিকে যুক্ত করা যায়।

প্রবাসীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অদক্ষ অবস্থায় বিদেশ যাচ্ছেন তরুণরা। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রবাসীরা সঠিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে তাদের জন্য প্রণোদনা রাখতে পারি।

২০ বছর পর চট্টগ্রামে আজ তারেক রহমানের সমাবেশ : কুমিল্লা জানান, দীর্ঘ ২০ বছর পর নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে এসেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেবেন। এ উপলক্ষে গত রাতেই বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর শীর্ষনেতার আগমন ও নির্বাচনি সমাবেশ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতারা বিমানবন্দরে তাদের প্রিয় নেতাকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করেন। তারেক রহমানের সমাবেশ ঘিরে রং-বেরঙের ব্যানার, পোস্টার, আর বর্ণাঢ্য তোরণে নতুন সাজে সেজেছে বীর চট্টলা। ঐতিহাসিক এ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই একদিন মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি হোটেলের হল রুমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ইয়ুথ পলিসি টকে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পলিসি নিয়ে মতবিনিময় করবেন ও তরুণ-তরুণীদের পরামর্শ শুনবেন।  

এদিকে, চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষ করে যাত্রাপথে বিকাল ৪টায় তারেক রহমান ফেনী পাইলট স্কুল খেলার মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সন্ধ্যা ৭টায় সোয়াগাজী ডিগবাজির মাঠ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পৃথক তিনটি নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেবেন। এরপর যাত্রাপথে রাত সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন। দিনভর কর্মসূচি শেষে তারেক রহমান ঢাকার গুলশানে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে পৌঁছাবেন। সিলেট সফরের মতো এ সফরেও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ত্যাগী নেতাদের একাংশ তাঁর সফরসঙ্গী হয়েছেন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনি সমাবেশ ও প্রচারণায় অংশগ্রহণ শেষে রাত ২টা নাগাদ তিনি গুলশানের নিজের বাসায় ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। -নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা প্রতিনিধি