Image description

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা বিভক্তির বাংলাদেশ চাই না। ঐক্যের বাংলাদেশ চাই। আমরা দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা আর বেকারের মিছিলে তাদের দেখতে চাই না। আমরা এমন একটা দেশ দেখতে চাই, যেখানে চোর-ডাকাত, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের জ্বালায় মানুষ অতিষ্ঠ হবে না। দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান আমরা কারও কাছে বন্ধক রাখব না। আল্লাহ যতদিন আমাদের তৌফিক দেবেন, ততদিন লড়াই চালিয়ে যেতে চাই দেশকে এভাবে দেখার জন্য।’

গতকাল দুপুরে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হক। বিএনপির ঘাঁটিতে জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণা করাসহ উন্নয়নের নানান প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে। বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করা হবে। বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। বগুড়ায় একটি আলাদা মাদ্রাসা বোর্ড স্থাপন করা হবে। বগুড়ার মানুষের প্রাণের দাবি সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেললাইন স্থাপন ও বগুড়া বিমানবন্দর যতদ্রুত সম্ভব সংস্কার করে এখান থেকে বিমান ওড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক বেকার যুবক ভাইকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করতে চাই। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। বিদেশে গিয়ে তারা মর্যাদার সঙ্গে আয়-রোজগার করবেন। এভাবে আমরা যুবসমাজকে শক্তিতে রূপান্তর করতে চাই।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের লড়াই এ দেশের সকল জুলুমবাজ কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, কোরআনের নির্দেশ। আর এ নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি মানবিক ও আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। আপনাদের ভোটেই আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ব।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো দুর্বৃত্ত যেন ভোট সেন্টার দখল করতে না পারে সেদিকে বগুড়ার নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। তারা ভোট সেন্টারে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রতিরোধ করা হবে। নারীদের কর্মস্থল থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় সরকারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ জামায়াত আমির জনসভায় বগুড়া-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী দবিবুর রহমানর, বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন এবং তাঁদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত : এর আগে গতকাল সকালে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন জামায়াত আমির। পরে তাঁর বাড়ি গিয়ে আবু সাঈদের বাবা-মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও সমবেদনা জানান।

এ সময় জামায়াত আমির আবু সাঈদের হত্যাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘আবু সাঈদরা জীবন দিয়ে দেশের আমানত আমাদের কাছে রেখে গেছেন। আমরাও জীবন দিয়ে এসব আমানত রক্ষা করব। আমরা আপনার সন্তানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করব।’

গাইবান্ধায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন : জামায়াত আমির রংপুর থেকে গাইবান্ধা এসে স্থানীয় পলাশবাড়ী এস এম পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১০-দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘অতীতের সরকারগুলোর উপেক্ষা, উদাসীনতা, অবহেলা গোটা নর্থবেঙ্গলকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। জনতার সমর্থনে আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, তবে নর্থবেঙ্গলে প্রথমে দৃষ্টি দেব মরা নদীগুলো জীবিত করার দিকে। উত্তরবঙ্গের কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমাদের জয়ী করলে গাইবান্ধায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে ইপিজেড করা হবে।’ একই সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে তিনি বালাশী ও বাহাদুরাবাদকে সেতুর মাধ্যমে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। জনসভায় জামায়াত আমির গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী আমির মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের প্রার্থী মো. আবদুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনের প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের প্রার্থী আবদুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

সিরাজগঞ্জে গুঁড়া দুধের কারখানা স্থাপন : গতকাল বিকালে সিরাজগঞ্জে ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিলে একসময়ের সমৃদ্ধ শিল্পনগর সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পসহ সব শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা হবে। সিরাজগঞ্জে গুঁড়া দুধের কারখানা স্থাপন করা হবে। এতে সিরাজগঞ্জে বিপুল পরিমাণ গরুর খামার গড়ে উঠবে এবং বিপুলসংখ্যক বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হবে। সিরাজগঞ্জের মেডিকেল কলেজকে আরও মানসম্মত করা হবে এবং সিরাজগঞ্জের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতসহ ১০-দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে-বাইরে কর্মস্থলে সুরক্ষা দেব। নারীদের উন্নয়নে কাজ করব। যারা নারীদের নিয়ে মিথ্যা মায়াকান্না করেন তারাই নারীদের ক্ষতি করে থাকেন।’ জনসভায় জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা শাহিনুর আলম, সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের মাওলানা মো. জাহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ ও রায়গঞ্জ) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি এনায়েতুল্লাহ আবদুর রউফ, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ-৫ (শাহজাদপুর) আসনে এনসিপির প্রার্থী এস এম সাইফ মুস্তাফিজের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।