পাবনাবসীকে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের জোয়ার কেটে দিতে হবে। আমরা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না। গরম ভাতে বিলাই বেজার হলে আমাদের কিছু করার নেই।
তিনি বলেন, জামায়াতের লোকদেরকে বাংলাদেশের মানুষ চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ মামলাবাজ বলে না। আমরা নিরপরাধ মানুষের নামে মামলা দিইনি। এমন আটটি মামলা আছে যেখানে আসামি মাত্র ১ জন কের। আমরা দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পাইনি, তাই মামলার আসামি বেশি হয়নি। কিন্তু, সেই আমাদেরই পাশাপাশি অনেকে মামলা করেছেন যার আসামি সংখ্যা ৮০০ থেকে সাড়ে ৯০০।
শনিবার রাতে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনেক সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাষ্ট হলো আমাদের বেশি। মামলা করলে আমরা করব। কিন্ত আমরা সবুর করতে পারলাম, তারা পারল না কেন…প্রশ্ন রাখেন ডা. শফিকুর।
তিনি আরও বলেন, এরা আবার বিভিন্ন জায়গা দখল করে। জায়গার নাম বললে আবার গোস্যা করে। জনসাধারণের উদ্দেশ্য করে বলেন, ভাইয়েরা এটা ভালো লক্ষণ নয়। সাড়ে ১৫ বছর ধরে আপনি মজলুম হলেন এখান থেকে তাহলে কি শিক্ষা নিলেন। কেন মজলুম থেকে জালিমের ভুমিকা নিলেন তারা?
৫৪ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতি আর চলবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির আরও বলেন, এবার এই ধরণের রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাতে হবে। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা পারবেন কি না?
ডা. শফিক বলেন, আমাদের কথা পরিষ্কার। চাঁদা আমরা নিব না। আল্লাহ যদি সরকার গঠনে আমাদের দেয়, তাহলে চাঁদাওয়ালাদের হাত বন্ধ করে দিব। এসময় চাঁদাবাজদের ভয় না পাওয়া এবং হতাশ না হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, তোমাদের হাতে কাজ তুলে দিব। হালাল পথে আয় করে চলবা। আমরা তোমাদেরকে শান্তি দিতে চাই। আঠারো কোটি মানুষেরও শান্তি দিতে চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরিবর্তনের জন্য এবার ভোট হবেন দুটি। প্রথমটি গণভোট। এটাতে হ্যাঁ দিতে হবে। তবেই পরিবর্তন নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, আমাদরেকে নিষিদ্ধ করা হযেছে। ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তি হজম করতে পারেনি। তা বদহজম হয়ে উগড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তরবঙ্গের ৮ জেলা সফরের দ্বিতীয় দিন পাবনা সমাবেশে শেষ হয়। এর আগে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশগুলোতে জোটভুক্ত ও নিজ দলীয় প্রার্থীর হাতের প্রতীক তুলে দেন তিনি। সমাবেশ শেষ করে তিনি ঢাকায় রওয়ানা করেছেন। ফেরার পথে গাজীপুর একটি পথসভায় বক্তৃতা করার কথা রয়েছে।