Image description
 

আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও ১১ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

 

আজ সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী।

 

এর আগে প্রসিকিউশনপক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এর মাধ্যমে গুমের কোনো মামলায় ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

 

সাক্ষী হুম্মাম কাদের চৌধুরী জবানবন্দিতে বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট সকালে ঢাকার আদালত এলাকায় যাওয়ার পথে বংশাল এলাকায় সাধারণ পোষাকধারী কিছু লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জেআইসি নিয়ে রাখা হয়। সেখানে তাকে সাত রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিবরণ দেন তিনি।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, যে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল তার দৈর্ঘ্য ছিল ১৫ থেকে ১৮ ফুট। প্রস্থ ৮ থেকে ১০ ফুট। গুম থাকা অবস্থায় তিনি দিনরাতের পার্থক্য বুঝতে পারতেন না। দুপুর ও রাতের খাবারে থাকত ভাত, এক পিস মাছ অথবা এক পিস মুরগি, সঙ্গে কিছু সবজি। একদিন বিরিয়ানি দেওয়া হলে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ঈদের দিন ছিল।

 

হুম্মাম জবানবন্দিতে বলেন, গুম থাকাকালে মাঝেমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে মারধর ও তার বাবার (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) রাজনীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। তিনি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেন কি না, বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো।

হুম্মাম বলেন, আয়নাঘরে বন্দি থাকাকালীন আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় কোনো বিদেশির কথা শুনতে পাইনি, তবে আমার সেলের বাইরে কয়েকবার আমি কিছু ব্যক্তিকে হিন্দিতে কথা বলতে শুনেছি। ২০১৭ সালের ২ মার্চ তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। তিনি শেখ হাসিনা ও জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সাজার আরজি জানান।

এ মামলায় কারাগারে থাকা ডিজিএফআই’র সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এ মামলায় শেখ হাসিনা, তার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১০ আসামি এখনো পলাতক। তারা হলেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। এ ছাড়া পলাতক আর তিন আসামি হলেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও  লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।