Image description

বারো দিনের যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমারা একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের আন্দোলন পরবর্তী সেসব ষড়যন্ত্রের সর্বশেষ। আমরা জ্বালানি ও গ্যাস নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করলে আমাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ থেকে তারা তুলে নেবে। গতকাল সকালে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন যতদিন শান্তিপূর্ণ ছিল ততদিন বল প্রয়োগ করা থেকে বিরত ছিলো তার সরকার।‌ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু ব্যবসায়ীদের শান্ত আন্দোলনকে প্রথমদিকে স্বাগত জানালেও পরবর্তীতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সহিংসতা শুরু করলে তাদের দমনে বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছিলো ইরান সরকার। তিনি বলেন, ৭ তারিখের পরও যারা আন্দোলনে যোগ দেয়নি তাদের ওপর হামলা বেড়ে যায়। এসময় নিরাপত্তা বাহিনী, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল এবং নার্সদের ওপরও হামলা হয়। পুলিশ প্রতিরোধে এগিয়ে এলে তারা আক্রান্ত হয় এবং শতাধিক পুলিশ নিহত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ৭-৮ জন অস্ত্রধারী প্রবেশ করে চরম সহিংসতা শুরু করলে ইরান সরকার প্রতিরোধ করে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। বারো দিনের যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই তারা ইরানকে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংঘর্ষ ও হামলা, পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত কত মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন এ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি। তবে অন্তত ১০০ জন পুলিশ হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রদূত। ‌

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতি ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা ঠেকাতে সক্ষম তারা। এসময় কোনো পরাশক্তি ইরানে আক্রমণ করে পার পাবে না বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদির অভিযোগ দেশটিতে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সীমান্ত পথে দায়েশ চোরাচালানের মাধ্যমে তার দেশে অস্ত্র প্রবেশ করায় বলে তার দাবি।
ইরানে সাম্প্রতিক সহিংসতায় স্টারলিংক ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি বলেন, ইরানে চলমান অস্থিরতা মার্কিন বুদ্ধিমত্তা ও পরামর্শের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বিদ্রোহীরাই প্রথমে পুলিশকে আক্রমণ করে, আর সেই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে পশ্চিমা বিশ্ব ফায়দা লুটছে। বিক্ষুব্ধ মানুষদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে ইরানজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং এ কারণেই বিক্ষোভে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে’।

তাদের কোনো পরামাণু অস্ত্র নেই উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, তাদের দেশকে রক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর সাইয়্যেদ রেজা মিরমোহাম্মাদি, দূতাবাসের মিডিয়া অফিসার খন্দকার মাহফুজুল হক, ও কালচারাল সেন্টারের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ।