আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তেজগাঁও কলেজ শাখার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণার জন্য আসনভিত্তিক সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে প্রকাশিত ওই কমিটিতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘটিত আলোচিত সাকিবুল হত্যা মামলার আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় সাকিবুল নামের এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর ছাত্রাবাসে অবস্থানরত একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, এই হামলার সঙ্গে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোরশেদ আলম তরুণ, সদস্য সচিব সেলিম হোসেনসহ ছাত্রদলের একাধিক নেতা-কর্মী জড়িত ছিলেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে পুলিশ ছাত্রাবাসের সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করে। প্রায় ২০ মিনিটের ওই ফুটেজে দেখা যায়, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোরশেদ আলম তরুণ ও সদস্য সচিব সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। একপর্যায়ে আহত সাকিবুলকে জোরপূর্বক হল থেকে বের করে নিয়ে যেতেও দেখা যায়।
সাকিবুল হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এখন পর্যন্ত প্রশাসন এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে বলে জানা যায়।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণার জন্য আসনভিত্তিক কমিটি প্রকাশ করা হয়। ওই কমিটিতে লক্ষ্মীপুর-৩ ও ঢাকা-১৬ সংসদীয় আসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে যথাক্রমে আহ্বায়ক মোরশেদ আলম তরুণ ও সদস্য সচিব সেলিম হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, ছাত্রাবাসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যেসব ব্যক্তিকে হামলার ঘটনায় চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের নামও কমিটিতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে এ বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজধানীর রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘটিত ঘটনাটি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন,
“হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা কীভাবে আবার ছাত্রদলের কমিটিতে জায়গা পায়, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা দ্রুত বিচার চাই। যতদিন না আমাদের ভাইয়ের হত্যার বিচার হবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।”
“অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের আন্দোলন সম্পর্কে ছাত্রদলের রাকিব ভাই অবগত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে খুনিরা এখনও কমিটিতে বহাল থাকে—তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে ছাত্রদলের কমিটি খুনিদের দিয়েই গঠিত?”