Image description
শিগগিরই ঘোষণা

একাধিক শরিক দলে অসন্তোষ রেখেই সমমনা ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বাধীন এই জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। গতকাল জামায়াতের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেয়া হয়। তবে সমমনা ইসলামী এই জোটের অন্যতম শরিক দল ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জোটের মতামত ছাড়াই এই তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে জোটের নেতৃত্বে থাকা এই দুই দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বহুবার। কিন্তু আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি এখনো।

ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, আমার জানামতে আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যারা বলছেন চূড়ান্ত হয়েছে, তারা বলতে পারেন কার সঙ্গে কীভাবে কী হয়েছে। 

একই সুরে কথা বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আরও একজন নেতা। তার মতে, আসলে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে মাঠের রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে পড়তে পারে। 

এদিকে সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কাল বা পরশুর মধ্যেই জোটের আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হবে। 

দুপুরে জামায়াত আমীরের বসুন্ধরার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের আমীর। এ সময় জামায়াত আমীর বলেন, আপনারা আগামীকালের ভেতরে দাওয়াত পাবেন, না হলে পরশু দিন। সবার সামনে আমরা একসঙ্গে আসবো। 

আসন সমঝোতার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শিগগিরই ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা দেয়া হবে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এর পাশাপাশি এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। 

সূত্র মতে, জামায়াত ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি আসন দিতে চাইছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ২টি এবং বিডিপিকে ২টি আসন ছাড় দিতে চায়। তবে ইসলামী আন্দোলন ৪০ আসনে সন্তুষ্ট নয়। তারা আরও কয়েকটি আসন দাবি করছে। 

একইভাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আসন সংখ্যা বাড়াতে চায়। তাদের প্রত্যাশা অন্তত ২৫ আসন। এদিকে ২৮শে ডিসেম্বর এনসিপি যখন ৮ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার আলোচনায় যুক্ত হয়, তখন তাদের ৩০ আসনে ছাড় দেয়া হবে, এমন আশ্বাস দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন দলটির নেতারা। তবে এরপর আসন কিছুটা কমতে পারে, এমন আলোচনা শোনা যায়। সমঝোতা আলোচনার সর্বশেষ বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি আসন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তাতে তারা সন্তুষ্ট নয়। 

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত জামায়াতের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, সবসময় প্রত্যাশা পূরণ হয় না। অতীতে বিএনপি জোটের সঙ্গে নির্বাচন করতে গিয়ে জামায়াতকে অনেক কষ্টকর ছাড় দিতে হয়েছে। এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই অসন্তোষ থাকলেও জোটের বৃহৎ স্বার্থে তা ভুলে যেতে হবে। 

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ওয়ান বক্স পলিসিতে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গত কয়েক মাসে দফায় দফায় বৈঠক করে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। পরবর্তীতে ২৮শে ডিসেম্বর এই সমঝোতায় যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। যা চলমান রাজনৈতিক ময়দানে ১১ দলীয় জোট হিসেবে পরিচিত।