Image description
১১ জানুয়ারি শুরু করবেন উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলা সফর

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে নিয়মিত নিজ নির্বাচনি এলাকার নেতা-কর্মী, দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী, এমনকি শরিক দলগুলোর শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।  বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। বৈঠক থেকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে তাদের সহযোগিতা কামনা করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের পর দেশ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এ নিয়েও আলোচনা করছেন। যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে গত বছর ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরার পর প্রথমবারের মতো আগামী ১১ জানুয়ারি চার দিনের সফরে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলায় সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এ ছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হলে বিভাগীয় জনসভায় বক্তৃতা করবেন এবং রাজধানীতেও গণসংযোগে অংশ নেবেন তিনি।

৯ জেলা সফরে যাচ্ছেন : তারেক রহমান দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলা সফর করবেন। এ সফর হবে ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি। ১১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়া যাবেন। বগুড়ায় রাতযাপন করে পরের দিন ১২ জানুয়ারি রংপুর ও দিনাজপুর হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন। ১৩ জানুয়ারি তিনি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড় যাবেন। সেখান থেকে নীলফামারী ও লালমনিরহাট হয়ে রংপুরে ফিরে আসবেন। রংপুরে রাতযাপনের পর ১৪ জানুয়ারি বগুড়া হয়ে ঢাকায় ফিরবেন। এই সফরে রয়েছে টাঙ্গাইলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ, নিহত জুলাই যোদ্ধা ও দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর ছাড়াও দিনাজপুরে তাঁর নানি তৈয়বা মজুমদারের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এ সময় তারেক রহমান আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়েন তারেক রহমান। কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে মা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। নিয়মিত রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অফিস করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। এসব বৈঠকে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন-পরবর্তী দেশ গঠন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে মুক্তির উপায়সহ সামাজিক-রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করছেন। আসন্ন নির্বাচনে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপির সমর্থনে নিজ দলের প্রতীকে ভোট করা দলগুলোর নেতারাই মূলত তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আসনে কোনো ব্যানারেই যাতে দলের নেতারা নির্বাচনের মাঠে না থাকেন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন তারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারেও নামবেন তারেক রহমান। এ-সংক্রান্ত কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিভাগীয় পর্যায়ে জনসভার পাশাপাশি ঢাকার কয়েকটি আসনেও ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নামবেন। এর বাইরে ঢাকা-১২ আসনসহ জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতেও নির্বাচনি প্রচারণায় যেতে পারেন তারেক রহমান। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে। প্রয়াত মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সিলেটে দুই সুফি সাধকের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এদিকে গত কয়েক দিনের সাক্ষাতের ধারাবাহিকতায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়াও আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে নাগরিক ঐক্য, জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে গণসংহতি আন্দোলন, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের নেতৃত্বে জমিয়ত, মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে এবি পার্টি এবং মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতারাও পৃথকভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। গত রবিবার দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা জানান। গতকাল বুধবার তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে ?নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। গত মঙ্গলবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় বিএনপি প্রধান নির্বাচনের পর বাংলাদেশের উন্নয়নে ইইউর সহযোগিতা চেয়েছেন। 

প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের আগেই তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হবে। ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলীয় প্রধানের পদটি শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দ হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। তার আগে দলীয় প্রধানের নাম নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে বিএনপিকে। দলীয় গণতন্ত্র অনুযায়ী, খুব শিগগির দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করা হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।