রাজধানী ঢাকায় বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনে ব্যবহৃত গ্যাসের সংকট দিনকে দিন তীব্রতর হচ্ছে। শীতে গ্যাসের চাপ প্রতি বছরই কমে যায়। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সার্ভিস লাইন নির্মাণকাজ এবং দুর্ঘটনায় বিতরণ গ্যাস পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তো ঢাকার অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দারা গ্যাসের অভাবে রান্নাই করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে। তারা অভিযোগ করে জানান, আগে রাতে চুলা সামান্য জ্বললেও এখন সেটিও জ্বলছে না। অন্যদিকে গ্যাসের বিকল্প এলপি সিলিন্ডারের সংকটে আরও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনতে স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতা। এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে হোটেল ও অফিসপাড়ায়ও চলছে চরম ভোগান্তি। বাইরে খাবার খেতে গিয়েও অনেকেই খেতে পারছেন না। আবার গ্যাসের সংকটে ঘুরছে না অনেক গাড়ির চাকাও। মহাখালীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সজীব খান বলেন, আমি দুপুরের খাবার অফিসে খাই। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে আজ অফিসের ক্যান্টিনেও রান্না হয়নি। বাইরে গিয়ে হোটেলে খাবারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। সিলিন্ডার সংকটে সেখানেও রান্না হয়নি। পরে রুটি কলা খেয়ে কাটিয়েছি।
গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানান, সম্প্রতি মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিন বাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হলেও মেরামতকালীন সময়ে পাইপে পানি প্রবেশ করে। এতে ঢাকায় সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। একইদিন আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল্লাহপুর, উত্তরা, টঙ্গী গাজীপুরের সার্ভিস লাইন নির্মাণ কাজের জন্য গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে তিতাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখন গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ খুবই কম। ডেমরাতে গতকাল মোট সরবরাহের অর্ধেকের সামান্য বেশি এবং আমিনবাজারে মোট সরবরাহের অর্ধেক পরিমাণ গ্যাস পেয়েছেন। আগে থেকেই তিতাসে কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তিতাসের চাহিদা দৈনিক ২৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের কিন্তু এখন পাচ্ছে ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। যেহেতু গ্যাস সরবরাহে বিদ্যুৎ, সার ও শিল্পকারখানাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আবাসিকে গ্যাস প্রাপ্তির বিষয়টি পরে আসে। একে সরবরাহ কম, এর সঙ্গে প্রাধান্য বিবেচনায় গ্যাস সরবরাহ দেওয়ায় আবাসিকের গ্রাহকরা গ্যাস কম পাচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহ না বৃদ্ধি পেলে আবাসিকে গ্যাস সংকট পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে না।
তীব্র গ্যাস সংকট বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি মেরামত করতে গিয়ে পানি ঢুকে যায়। এজন্য ডুবুরিরা কাজ করতে পারছিলেন না। এখন পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ মেরামত করতে পেরেছি। মেরামতের জন্য আরও বড় একটি লিক ক্ল্যাম্প নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছি। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই ঢাকায় গ্যাস সরবরাহ এখন খুবই কম। আগামী শুক্র-শনিবার গ্যাসের চাপ আরেকটু বাড়িয়ে পরিস্থিতি ভালো করার চেষ্টা করব। এদিকে গ্যাসের সংকটে ঢাকার সিএনজি গ্যাস স্টেশনগুলোতেও দেখা যায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন। শীত মৌসুম শুরুর পর থেকেই স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ একেবারে কমে গেছে। গাড়িচালকরা জানান, গ্যাস নিতে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে গাড়ির চাকাও ঘুরছে না।