নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, পেশাদারি ও সততা বজায় রাখতে কঠোর বার্তা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে এ বিজ্ঞপ্তিতে।
দাপ্তরিক কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত অফিস সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টায় কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। বিলম্ব উপস্থিতি এবং অনুমতি ছাড়া প্রস্থানকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ডেস্কে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে এবং কোনো কাজ অনিষ্পন্ন রাখা যাবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাই কোর্ট রুলস অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি (তিনি বারের সদস্য বা আইনজীবী সহকারী বা আদালতের কর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তি) আদালত প্রাঙ্গণে বা আদালত ভবনের কোনো অংশে কোনো মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বৈধ ও অবৈধ যেকোনো প্রকার অস্ত্র, মারণাস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত পার্কিং ছাড়া ভবনের গেটের সামনে গাড়ি ও রিকশা পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। বিজ্ঞপ্তিতে দুর্নীতির বিষয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।