Image description
 

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে অভিযোগ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, নির্বাচনী পরিবেশে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যা সুষ্ঠু ভোটের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকালে আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল এসব অভিযোগ তুলে ধরে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এখনো নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। প্রচারণার সময় কিছু প্রার্থীকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেককে ন্যূনতম নিরাপত্তাও দেওয়া হচ্ছে না। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

ডা. তাহের আরও বলেন, সারাদেশে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। তার দাবি, দলীয় বিবেচনায় জেলা প্রশাসকদের কাজ করার অভিযোগ রয়েছে, যা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।

 

নির্বাচন একতরফা হলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলেও সতর্ক করেন জামায়াত নেতা। তার ভাষ্য, এর আগেও একটি বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচন থেকে বাদ পড়েছে, একই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অন্য দলগুলোকেও রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়তে হতে পারে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়েও বৈষম্যের অভিযোগ তোলে জামায়াত। দলটির দাবি, একাধিক মামলার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অন্য দলের অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে, অথচ জামায়াতের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এমনকি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কিছু মনোনয়ন বহাল রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া একটি দলের পক্ষ থেকে ভোটারদের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের অভিযোগ তুলে একে আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন ডা. তাহের। বিষয়টি বন্ধে কমিশনের হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়েছে।

সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হলে নির্বাচন কমিশন এতে সম্মতি জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে জামায়াত।