ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর এক ছাতার নিচে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে সমঝোতা হলেও দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখা প্রতীকের দুই দলের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত দুই দলই সমঝোতায় আসছে বলে জানিয়েছেন দল দুটির শীর্ষ নেতারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জোটে জামায়াতে ইসলামী ১৮০ থেকে ১৮৫টি আসন রাখতে চাইছে। অন্যগুলো জোটের শরিকদের দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই এতে রাজি নয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪৩টিতে ভালো অবস্থায় আছেন বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।
এ নিয়ে দল দুটির মধ্যে টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। তবে তাদের মধ্যে বরফ গলতে শুরু করেছে। দুই দলের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, তারা একসঙ্গে জোটে থাকতে চান। কয়েকদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ভালো ফলাফল আসবে বলে জোটের নেতারা মনে করছেন। যদিও কারা কয়টি আসন পাবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেছেন, ‘সবার আগ্রহ আছে, আশা করি জোট ভাঙবে না। সবকিছুর সমাধান সম্ভব বা হবে। চার-পাঁচদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে। কিছু কথা আগে হয়ে গেছে। আমরা সেগুলো মনে রাখতে চাই না, পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। ঐক্য নষ্ট নয়, এমন আচরণ যেন না হয়।’
একই ধরনের কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘প্রার্থীর সংখ্যার চেয়ে আমাদের টার্গেট থাকবে, যাতে আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জয়ী হতে পারে, সেভাবেই আমরা বাছাই করব। লক্ষ্য থেকে যেন বিচ্যুত না হয়।’
ছাড় দিয়ে হলেও ঐক্য ধরে রাখতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসন সমঝোতা যাতে সবাই মেনে নেন। এ ধরনের একটি সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা চলছে। বড় ভাই সূলভ আচরণ কেউ করছে না। আমরা পরস্পরের প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা রেখেই আমরা কাজ করছি।’
জানা গেছে, জোটের অন্যতম শরিক এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলন। দলটি শতাধিক আসনে প্রার্থী দিতে চায়। তবে জোট থেকে তাদের ৪০টির মতো আসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা এ প্রস্তাব মানতে রাজি না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। এখন নতুন উদ্যোগে কোন দল কয়টি আসন পাবে, তা নিশ্চিত নয়।
শুরুতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল আসন সমঝোতার আলোচনায় ছিল। তবে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিকে এনসিপি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জোটে যোগ দেয়। একই সময়ে আমার বাংলাদেশ পার্টিও (এবি পার্টি) যুক্ত হলে দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১টিতে।