Image description

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, জুলাইয়ের ঘটনার পর বিএনপি কোন ইশারায় আবার পুরনো বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরেছে তা তার বোধগম্য নয়। আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে যতটুকু জানার সুযোগ হয়েছে ছাত্রসংগঠনক হিসেবে, সচেতন নাগরিক হিসেবে উনার তিনি মুগ্ধ উল্লেখ্য করেন। কারণ হিসেবে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভাজনের দেয়াল ভেঙে তিনি ঐক্যের সূচনা করেছিলেন; আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে উনার সাহসী অবস্থান ও পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে কৌশলী অবস্থান ছিল দূরদর্শী নেতৃত্বের গুণাবলি। 

শিবির সভাপতি লেখেন, শৈশব থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও খুনি হাসিনাকে দেখে বড় হয়েছি। বেগম জিয়ার চরিত্রের অন্যতম দিক ছিল ‘নম্রতা বা সফটনেস’। যেখানে খুনি হাসিনা সম্পূর্ণ তার বিপরীত। তবে বেগম জিয়াকে যে পরিচয়ে সবচেয়ে বেশি চিনেছি তা হলো দেশের স্বার্থে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’। যার প্রমাণ ১/১১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করছি। তিনি জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন কিন্তু ফ্যাসিবাদ ও দেশবিরোধী কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে নূন্যতম মাথা নত করেননি। 

বেগম জিয়ার অসুস্থতায় দলমত-নির্বিশেষে সবাই দোয়া করছেন জানিয়ে তিনি লেখেন, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুব মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। বাংলাদেশের পরিবর্তিত নতুন এই সময়ে উনার চিন্তা ও পরামর্শ আমাদের এই প্রজন্মের খুব বেশি প্রয়োজন। আল্লাহ উনাকে সুস্থ করে দিন। আমীন। তারেক রহমানক সম্পর্কে যতটুকু দেখেছি উনাকে একজন স্মার্ট ব্যক্তি হিসেবে জানি। কথিত দূর্নীতি ও হাওয়া ভবন ইস্যুতে উনার বিষয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও আমি উনাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলাম যে, ৩৬ জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে তিনি রাজনীতিতে নয়া সংস্কৃতি ও একটি স্মার্ট মুভ দিবেন। উদারতা ও বিভাজন মুক্ত রাজনীতি করবেন। কিন্তু গত দেড় বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির যে চরিত্র তা কোনোভাবেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার আদর্শের সাথে মিলাতে পারছি না। 

জাহিদুল ইসলাম লেখেন, আমি জানি না এতে তরেক রহমানের হাত আছে কি না; না কি অন্যকোনো শক্তি বা নেতাদের দ্বারা তিনি প্রভাবিত হচ্ছেন। বিশেষত ছাত্রদলের সাথে ছাত্রশিবিরের ৩৬ জুলাই অভ্যূত্থানের আগের সম্পর্ক ও পরের সম্পর্কের মাঝে যে এক অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা এটা ঠিক কার ইচ্ছায় আল্লাহ ভালো জানেন। আমি নির্ভরযোগ্য তথ্যের আলোকে এটা জানি যে, জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপির সাথে জাতীয় স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েই সম্পর্ক অটুট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যা এখনো চলমান। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে জামায়াতের প্রতি অনেকটা তুচ্ছতাচ্ছিল্যের আচরণ করা হয়েছে। বিএনপি নিজেদেরকে ও আওয়ামীলীগ ছাড়া কাউকে সরকারি দল ও বিরোধী দল হিসেবেই ভাবতে রাজি নয়। কী আজব চিন্তা! দেখা যাক সময় বলে দিবে এই চিন্তা কতটুকু বাস্তব। তারা সবচেয়ে মারাত্মক যে পলিসি নিয়েছে তা হলো- ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের মত ৭১, ৭১, ৭১ জিকির তুলা। আদর্শিক বয়ানের বিপরীতে চেতনার ব্যবসা এই প্রজন্ম কতটা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে তা বুঝার মত জ্ঞান কি তারেক রহমানের হয় নাই!!  বিএনপি ঠিক কার ইশারায় বিভাজনের সেই পুরনো রাজনীতিতে ডুব দিলো তা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়!

‘২০১৫ সালে আমি যখন কারাঘারে যাই আমাকে আহত অবস্থায় আমদানি সেল থেকে কারা হাসপাতালে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে অনেককে পেলাম যাদের পায়ে গুলি করা হয়েছিল। অনকের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সে কি বীভৎস চিত্র যা ভাষায় প্রকাশ করার নয়! প্রায় ৬ মাস কারা জীবনে ছাত্রশিবির ও জামায়াতের ভাইদের নির্যাতনের চিত্র ও ঘটনা যেমন দেখেছি, ঠিক বিএনপির ভাইদের অনেক ইতিহাসও আমার জানা আছে। গত প্রায় ১৫টি বছর খু*নি হাসিনা ছাত্রশিবির ও জামায়াতের ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার বিএনপির নেতা-কর্মীদের খুন, গুম, রিমান্ড, বাড়িঘর ছেড়ে ধান ক্ষেত ও খাল-বিলে জীবন কাটাতে হয়েছে তার সাক্ষী আমরা। কিন্তু ৩৬ জুলাই পরবর্তী বিএনপির পলিসি মেকাররা ঠিক কোন রাজনীতি শুরু করলেন আমি কিছুতেই তার হিসাব মিলাতে পারি না।’

 

তিনি আরও লেখেন, আমি তারেক রহমানের উপর আশাহত হতে চাই না। উনি কারও শৃঙ্খলে আবধ্য না থেকে নিজের স্বকীয়তা ও পিতা-মাতার রক্তকে ধারণ করে রাজনীতি করুক। আমার বিশ্বাস ছাত্রশিবিরসহ সকল দেশপ্রেমিক বিপ্লবী শক্তি উনাকে ভালোবেসে সহযোগিতা করবে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়। যাদের মাঝে ফ্যাসিবাদী আচরণ ও আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করার প্রবণতা দেখা যায় বিশ্বাস করুন এই প্রজন্ম তাদেরকে একদম সহ্য করতে পারে না। 

ভবিষ্যতে মিলিয়ে নিবেন উল্ল্থখ্য করে তিনি বলেন, ১. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রীর আদর্শকে বিএনপি যতদিন ধারণ করতে পারবে, সে আলোকে দলের পলিসি নির্ধারণ করতে পারবে, ঠিক ততদিন বাংলাদেশে বিএনপি টিকে থাকবে। উনাদের ২জনের আদর্শকে মাইনাস করে এর বিপরীত চিন্তা ও রাজনীতি কোনোভাবেই টিকবে না। আস্তে আস্তে হারিয়ে যাবে। ২. বাম ও কথিত বন্ধু রাষ্ট্র (আধিপত্যবাদী) এ দেশের কোনোদিনই ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার করে নাই। স্বার্থ হাসিল, বিভাজন ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলাম বিদ্ধেষই তাদের প্রধান এজেন্ডা। তারা যাদের ওপর সওয়ার হয় দেশের ক্ষতির পাশাপাশি সেই দল বা আদর্শের ১২টা বাজিয়ে ছেড়ে দেয়। আমাদের মনে রাখা উচিত ক্ষমতা কখনোই স্থায়ী হয় না, কিন্তু আচরণ ও আদর্শ মানুষকে ভালোবাসা কিংবা ঘৃণার স্থায়ী পাত্র বানিয়ে দেয়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে দেশের স্বার্থে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।