Image description

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। রবিবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো প্রদক্ষিণ করে রোকেয়া হল-সংলগ্ন যাত্রী ছাউনীর পাশে মিছিলটি শেষ হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ পালন করে।

এ সময় তারা ‌‘চবিতে রক্ত ঝরে, ইন্টেরিম কী করে’, ‘চবিতে হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে ছাত্রদলের সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘গতকাল রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বোন একটু দেরি করে বাসায় ঢুকতে চেয়েছিল। তখন দারোয়ান তার গায়ে হাত তুলে। যখন আমার ভাইরা প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিল তখন সন্ত্রাসীরা গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত হামলা চালিয়েছে। গতকাল রাত থেকে আজকে দিন পর্যন্ত হামলা প্রতিরোধ করতে পারেনি প্রশাসন। যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হনয় তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিক।’

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু এ ঘটনা না, এর আগেও অনেক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এর আগে সান্ধ্যকালীন আইন করে তারা শিক্ষার্থীদের রাতে বাইরে বের হ‌ওয়াকে নিষিদ্ধ করেছিল।

আবিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে সব‌ সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তাদের ওপর হামলাকারীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। সেই সঙ্ড়ে এই ইন্টেরিমের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী  ৮ আগস্ট একটি সর্বজনীন স্বীকৃতি সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। শিক্ষার্থী, কৃষক থেকে শুরু করে সকলেই ভেবেছিল তারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ছাড়বেন‌। কিন্তু এখন আমরা উল্টোটা দেখতে পাচ্ছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্পুর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন যে প্রশাসন নিয়োজিত করেছে তারাও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। গতকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন বোনের লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জানাতে আমার ভাইরা যখন দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সেখানে যায় তখন মাইক দিয়ে ঘোষণা করে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়।

গণেশ চন্দ্র আরও বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে আমরা দেখি আইন উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম নিজ হাতে পুলিশ সদস্যদের মিষ্টি বিতরণ করেন। মিষ্টি বিতরণ করা তার কাজ না। তার কাজ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে  শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা করা হলো এর দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এড়াতে পারে না। তাদের রক্তের দাগ না শুকানোর আগেই এ হামলায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে অন্যথায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বসে থাকবে না।’