
আগামীকাল (সোমবার) সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ–এর মুখোমুখি হবেন। এটাই হবে এপ্রিলের পেহেলগাম পর্যটকদের ওপর হামলা এবং অপারেশন সিদুঁর–এর পর দুই নেতার প্রথম সাক্ষাৎ।
রোববার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।
এবার তিন বছর পর মোদি সরাসরি এসসিও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৩ সালে ভারত সম্মেলনের আয়োজক ছিল বটে, তবে বৈঠকটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে কাজাখাস্তানে আয়োজিত সম্মেলনে মোদি যোগ দেননি।
চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সন্ত্রাসবাদের ইস্যু তুললেন মোদি
এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি পাকিস্তানভিত্তিক সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। বৈঠকে চীন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারত ও চীন দু’দেশই এই অভিশাপের শিকার। তিনি চীনের সমর্থন চেয়েছেন—চীন তাদের সমর্থন জানিয়েছে।’
মোদি-শি বৈঠকে দুই নেতা সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন।
পাকিস্তান ইস্যু ও এসসিও বিতর্ক
চীন দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায়, গত জুনে এসসিও সম্মেলনের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার উল্লেখ ছিল না। ভারত এতে সই করতে অস্বীকৃতি জানায়। তার পরিবর্তে বিবৃতিতে বেলুচিস্তানের ঘটনাগুলোর উল্লেখ ছিল, যা ভারতের প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর—২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক এবং ২৫ শতাংশ রাশিয়ান তেল কেনার কারণে—দিল্লি ও বেইজিং সম্পর্ক পুনরায় মেরামতের পথে এগিয়েছে।
কৌশলগত বার্তা
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকে উল্লেখ করেছেন যে ভারত ও চীন দু’দেশই ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ অনুসরণ করে, তাই তাদের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়।