Image description

কুয়াকাটায় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম আকনকে জিম্মি করে তার স্বাক্ষরিত ৩০ লাখ টাকার একটি চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

 

রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে বিস্তারিত উল্লেখ করে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেন হালিম আকন। শনিবার সন্ধ্যায় পৌরসভার পাঞ্জুপাড়া বাসায় ঢুকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে তাকে চেক দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

হালিম আকন জানান, নেছার উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ছোট ভাই কাওসার হাওলাদার ও সহযোগী শাহিন হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি চক্র তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চায়। তিনি অনেক অনুনয় করে একটি বেসরকারি ব্যাংকের পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর উপশাখার ৩০ লাখ টাকার চেকটি দিতে বাধ্য হন।

 

ব্যাংকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হলে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে, নাহলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অনুনয় বিনয় করে উপায় না পেয়ে প্রাণ বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ৩০ লাখ টাকার স্বাক্ষরিত একটি চেক দিয়ে দেন নেছার উদ্দিনকে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ব্যাংকে জানানোর পর থেকে ভুক্তভোগী হালিম আকন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছেন।

 

এ ব্যাপারে ব্যাংক ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম জানান, গ্রাহকের ব্যক্তিগত কোনো তথ্য বলা যাবে না। গ্রাহক মৌখিকভাবে অ্যাকাউন্টের লেনদেন সংক্রান্ত কোনো সেবা চাইলে তারা দিয়ে আসছেন।

 

কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নেছার উদ্দিন জানান, তিনি এক বছর আগে হালিম আকনের বাবা মোস্তফা আকনের কাছ থেকে ১৫ শতক জমি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনেছেন। এ সংক্রান্ত বায়না দলিলও রয়েছে। ওই টাকা পাওনা ছিল; কিন্তু তাকে দলিল করে না দিয়ে ওই জমি অন্যত্র বিক্রির খবর পেয়ে মোস্তফা আকনকে জানান। তিনি তখন বাড়িতে ডেকে তার ছেলে হালিম আকনের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ লাখ টাকার স্বাক্ষরিত একটি চেক দেন। এ সময় অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন। রোববার ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, হালিম আকন ব্যাংকে আপত্তি করেছেন। পরবর্তীতে তার বাবাকে জানাই। তিনি পাওনা টাকা বাবদ দুটি চেকের মাধ্যমে ২৮ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেন। বাকি টাকা বাবদ কিছু জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। এর বেশি কিছুই না। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একটি ষড়যন্ত্র করে এমন অপপ্রচার করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ রিয়াজ জানান, বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

 

কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার জানান, বিষয়টি সঠিকভাবে না জেনে মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামিম চৌধুরীকে মোবাইল করলে তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।