সিলেট জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটির দায়িত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে নানা জল্পনা। চলছে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপও। নেতারা জানিয়েছেন, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠন করা হবে। এজন্য আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দুটো পদ আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হতে নেতারা নিজ নিজ বলয় থেকে লবিং চালাচ্ছেন।
সিলেট জেলা বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি। ২০২২ সালের ২৯শে মার্চ সম্মেলন শেষে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তারা নির্বাচিত হয়েছিলেন। জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদও ভোটে নির্বাচিত হন। এরপর ২০২৩ সালের ২০শে মার্চ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই কমিটি এরই মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। দু’মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংগঠনিক সভা। এই সভায় দল শক্তিশালী করতে নতুন করে কমিটি গঠনের তাগিদ এসেছে। এরপর থেকে জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটি গঠনে তোড়জোড় শুরু হয়।
নেতারা বলছে; সবকিছু চূড়ান্ত। যেকোনো সময় ঘোষণা করা হতে পারে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি। তবে বিতর্ক এড়াতে সরাসরি কমিটি গঠন করা যায় কিনা, এ বিষয়টি কেন্দ্রের চিন্তাভাবনায় রয়েছে। কারণ; গেল মাসে সিলেট জেলা ও নগর যুবদলের কমিটি সম্মেলন ও কাউন্সিল ছাড়াই ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে জেলা বিএনপি’র কমিটি একইভাবে ঘোষণা হওয়ার বিষয়টিকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। বলা হচ্ছে; সিলেট জেলা বিএনপি দিনে দিনে নিষ্ক্রিয় হতে যাচ্ছে। জেলার সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিটি প্রশাসক। তিনি আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ কিছুটা ভাটা পড়েছে। জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সিলেট-৬ আসনের এমপি। তিনি এখন নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণও সংকোচিত হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় জেলা বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করা হয়েছে অনেক আগেই।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দল গোছানো একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময় হলে নতুন করে কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়। জেলা বিএনপি মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। অনেক কাজই এগিয়ে রাখা হয়েছে। এদিকে সিলেট জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটিতে কারা আসছেন দায়িত্বে সেটি নিয়ে আলোচনার ডালপালা মেলছে।