দেশের বাজারে হঠাৎই বেড়েছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের ধরনভেদে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাইকারি বিক্রেতা ও মিল মালিকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। পাইজাম ও গুটি স্বর্ণা-এই দুই জাতের চালের ক্রেতা মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় উঠেছে। মাঝারি মানের বিআর-আট চালের দাম দুই টাকা বেড়ে মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। সরু চালের দামও কেজিতে তিন টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এই চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘১৫ দিন আগে যে চাল আমরা দুই-তিন টাকা কমে বিক্রি করতাম, এই সপ্তাহ থেকে প্রত্যেক চালের দাম কেজিতে দুই-তিন টাকা বেড়েছে।’
রাজধানীর খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া চাল আসে দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার কৃষি মার্কেট থেকে। সেখানকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলগেটেই চালের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে দেড় থেকে দুই টাকা। এর সঙ্গে ট্রাকপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। ফলে ঢাকার পাইকারি বাজারে চাল আনতে ৫০ কেজির বস্তায় খরচ বেড়েছে অন্তত ১০০ টাকা।
এ বিষয়ে উত্তর বাড্ডার পাইকারি চাল ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, মিলগেটের খরচের সঙ্গে তেলের দাম বৃদ্ধি ও ভাড়ার ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ছে। আমাদের গাড়িভাড়া আগে যেখানে ১৫ টনের ট্রাকে ২০ হাজার টাকা লাগত, সেখানে এখন লাগে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে চালের সরবরাহ আসে প্রায় ১৮ হাজার চালকল থেকে। এসব চালকলের বড় একটি অংশের চাল সরবরাহ করে নওগাঁ, কুষ্টিয়া, যশোর ও উত্তরাঞ্চলের শতাধিক মিল। মিলমালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। ফলে বাজারে চালের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যেটা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেটা হচ্ছে ক্যারিং কস্ট এবং কস্ট অব প্রোডাকশন। এই দুটির কারণে কেজিতে দুই-এক টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আমাদের মিলগেটে চালের মূল্য এখন পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে। এতে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, যার প্রভাবে দারিদ্র্যের হার বাড়তে পারে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেকোনো ধরনের খরচ যদি বেড়ে যায়, স্বাভাবিকভাবে তার জীবিকার ওপর একটা প্রভাব পড়ে। এখন বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবিকার ওপর প্রভাব পড়ছে। এ কারণে যারা গরিব, তারা আরও গরিব হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন করে গরিব মানুষ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে চালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর না পড়ে, সেজন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।