বরিশাল বিএনপিতে কোন্দল থামছে না। এতদিন মনোনয়ন যুদ্ধে লড়াই ছিল শীর্ষ নেতাদের মাঝে। এবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছেন মহানগর বিএনপি’র ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন। একটি বহুতল ভবন নির্মাণের ইস্যু ধরে বিসিসি প্রশাসকের বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচিতে বক্তব্যের ধরন দেখে হতবাক সাধারণ নেতাকর্মীরা। নাসরিনের দাবি, জনগণের দুর্ভোগের রাজনীতি বরিশালে চলবে না। অপরদিকে বিসিসি প্রশাসক এটি ঘৃণ্য রাজনীতি বলে অবহিত করেছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
বরিশালের রাজনীতিতে পোড়খাওয়া ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। অপর দিকে আফরোজা খানম নাসরিন বিএনপিতে তরুণ নেতা হিসেবে পরিচিত। গত ৩০শে সেপ্টেম্বর প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান সিটি মার্কেটের উদ্বোধন করেন। সেখানে সিটি করপোরেশনের ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। বিসিসি’র একাধিক কর্মকর্তার মতে এ খালি জায়গাটি প্রায়শই বেদখল হয়ে পড়ে। আবার করপোরেশন দখলে নেয়। এবার প্রশাসক এখানে স্থায়ী একটি মার্কেট করার উদ্যোগ নেন। তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান শিরিন। নগরীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে সিটি করপোরেশনের বহুতল মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদ জানান তিনি। শুধু প্রতিবাদেই থেমে থাকেননি। করেছেন মানববন্ধনও। শনিবার বগুরা রোডবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি দাবি করেন, সিটি করপোরেশন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে সেখানে বহুতল মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে মার্কেটের পেছনে থাকা বাড়ির মালিকরা পড়বেন ভোগান্তিতে। তাদের হাঁটাচলার পথ এমনকি প্রধান সড়কও সরু হয়ে পড়বে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তারা কোনোভাবেই এ দুর্ভোগের উন্নয়ন হতে দেবে না। এ ব্যাপারে মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেয়া মহানগর বিএনপি’র ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘দল হচ্ছে জনগণের জন্য, কোনো ব্যক্তির জন্য নয়। আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমিও জনগণের স্বার্থে আন্দোলনে দাঁড়িয়েছি। জনগণকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। নাসরিন আরও বলেন, ‘এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এই সড়কের পাশেই রয়েছে সরকারি বালিকা বিদ্যালয় যেখানে ৩ সহস্রাধিক মেয়ে লেখাপড়া করছে, তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এলাকাবাসী। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সরজমিন পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানান।
তবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, ‘আমি নগরবাসীর সমস্যা সমাধান করতে সবসময় সচেতন। তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা সিটি করপোরেশনে এসে আমাকে সরাসরি জানাতেন। এখানে যারা মানববন্ধন করেছে তারা কেউই স্থানীয় বাসিন্দা নয়। আবার মানবন্ধনে দখলবাজরাও ছিল বলে শুনেছি। তার মতে, মানববন্ধন কোনো ভাষা হতে পারে না।
বিএনপি’র সিনিয়র নেত্রীর সঙ্গে এজন তরুণ নেত্রীর এই বিরোধ প্রভাব ফেলছে স্থানীয় রাজনীতিতে। মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বিসিসি’র প্রশাসককে একজন সৎ ত্যাগী নেতা হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রশাসক হিসাবে তিনি বরিশালের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন। মহানগর বিএনপি’র একজন যুগ্ম আহ্বায়ক তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে পারেন না। এটি সাংগঠনিক নিয়মের বাইরে। এ ব্যাপারে তিনি কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।