Image description

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সংবিধানে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা। জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের অংশ করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণ অভ্যুত্থানে হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি উঠেছে। গতকাল সংসদ সচিবালয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব দাবি ওঠে। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আদালতের রায়ের বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনীতে প্রতিফলিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এমনভাবে সংবিধানে প্রতিস্থাপন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে সেটি সরাতে হলেও জনগণের মতামত নিতে গণভোটের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শুধু সংবিধানে ফিরিয়ে আনা নয়, ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা সংসদ যাতে সহজে এ ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সেজন্যও সাংবিধানিক সুরক্ষা তৈরির চিন্তা করছে বিশেষ কমিটি।

বৈঠকে ৬৩ জনের মধ্যে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং সাকিলা ফারজানা অংশগ্রহণ করেন। জুলাইয়ে আহতদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মেহেদী হাসান মিরাজ, সুজন মোল্লা, আল মিরাজ, আমিনুল ইসলাম ইমন, গোলাম রহমান, মো. লিটন, রবিউল ইসলাম রাহুল, শাহীন মোল্লা, আলাউদ্দিন, মাহাবুব আলম প্রমুখ।

বৈঠকে জুলাই যোদ্ধাদের উত্থাপিত দাবি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি বৈঠকে এসেছে এবং তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সংবিধানে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে থাকা অনেক বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোও স্বীকার করেছে। এসব বিষয় সংবিধানে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তফসিলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কমিটি সূত্র জানায়, শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের দাবির কেন্দ্রে ছিল তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষা। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই গণ অভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়; এটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে। ফলে এই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বীকৃতি এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ না রেখে সংবিধানেই নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জুলাই জাতীয় সনদেও গণ অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহতদের আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

বৈঠকে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনদ যেভাবে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে তা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। সংবিধান সংশোধনী প্রণয়নের ক্ষেত্রে সবার মতামত ধারণ করার চেষ্টা করা হবে। সংশোধনী প্রণয়নের সময় এসব মতামত বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশেষ কমিটি। কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিরোধী দলসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারবেন না, এ বিষয়ে কমিটির মতামত রয়েছে।