Image description

জনগণকে শান্তিতে রাখতে না পারলে এমন সরকারের দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

আজ রবিবার রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন জামায়াতের শীর্ষ নেতা।

জামায়াত নেতা শফিকুর বললেন, যে সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, যে সরকারের হাতে জনগন শান্তিতে ঘুমাতে পারে না নিরাপত্তা নিয়ে, সে সরকারের কোনো দরকার নেই। জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে না পারলে দায়িত্ব তাদেরই দেওয়া হবে, যারা তা পালন করতে পারবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বললেন, ‘সরকারকে আমরা ঘুমাতে দেব না। সরকারের কাজ জনগণকে ঘুম পাড়ানো নয়। জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে, সরকার পাহারা দেবে—এটাই সরকারের কাজ।’

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির বললেন, বর্তমান সরকার পূর্বের সরকারকে দায় দিচ্ছে হামের মৃত্যু নিয়ে। ডেঙ্গুতেও অতীতে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে ব্যর্থতা স্বীকার করে মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

‘আমরা যখন সংসদে এসব বিষয়ে কথা বলি তখন এমনভাবে জবাব দেওয়া হয় যেন বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের একটি দেশে পরিণত হয়েছে এবং এখানে কোনো সমস্যা নেই। প্রথমে বলা হয় কোনো সমস্যা নেই পরে আবার সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করা হয়’, যোগ করেন জামায়াত নেতা শফিকুর।

সরকারের তথ্য আড়াল করার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বললেন, জনগণের চোখ এড়িয়ে কোনো কিছু আড়াল করার সুযোগ নেই। এখন আর তথ্য আড়াল করার যুগ নয়। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে যায়।

যেকোনো দুর্যোগে জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম সম্পর্কে দলের শীর্ষ এ নেতা বলেন, দুর্যোগ এলে জামায়াতে ইসলামী বসে থাকে না। ডেঙ্গুকে মহামারির মতো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে ৪ থেকে ১০ অক্টোবর ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। শুধু লিফলেট বিতরণ নয়, জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘আমরা সরকারকে বার্তা দিতে চাই—আমাদের কোনো সরকারি তহবিল দেওয়া হয়নি। আমাদের কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিজস্ব অর্থেই আমরা মাঠে নেমেছি। সরকার জনগণের টাকার দায়িত্বশীল, জনগণের ট্যাক্সের পাহারাদার। জনগণের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে’, বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির।

শফিকুর বললেন, শুধু লোক দেখানো বা ফটোসেশনের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে কার্যকরভাবে কাজ করতে চায় জামায়াতে ইসলাম।

আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বললেন, বিমানবন্দরে অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা করা হয়েছে। তিনি প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলেছেন। যেসব প্রবাসীর ব্যাগ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয় তাদের জন্যও তিনি কথা বলেছেন।

মেজর আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে শফিকুর বললেন, ‘এটা ১০০ ভাগ নয়, এক হাজার ভাগ মিথ্যা। তিনি কারও গায়ে হাত তোলেননি।’

‘বিমানবন্দর সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকার পরও আদালতে মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগের কোনো ভিডিও দেখানো হয়নি। বলা হয়েছে ওই জায়গায় নাকি ক্যামেরা ছিল না।’

শফিকুর বললেন, ‘মেজর আখতার এখন আর শুধু জামায়াতে ইসলামের লোক ও নেতা নন। এখন তিনি সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত সমস্ত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন।’