সার নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর এক মন্তব্যের জের ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। যেসব এলাকায় জামায়াতের সংসদ সদস্য পরিকল্পিতভাবে সেসব এলাকাতে সার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে রংপুর মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহার। রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত দলীয় ১৪ জন সংসদ সদস্যের (এমপি) উপস্থিতিতে বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ব্যানারে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
গত মঙ্গলবার রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে ব্রিফিংকালে সার–সংকট নিয়েও কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, ‘যে সমস্ত জেলা থেকে বেহেশতিরা টিকিট বিক্রি করে নির্বাচিত হয়েছে, সারের সংকট ঠিক ওই জেলাগুলোতেই কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত নেতা আজহার, ‘যে সমস্ত এলাকায় জামায়াতের এমপি, সেখানে সার–সংকট। তাহলে কি আমি ধরে নেব, সরকার থেকে ডিলারকে বলে দেওয়া হয়েছে-যেহেতু লোকেরা জামায়াতকে ভোট দিয়েছে, সার তোমরা বিক্রি করিও না?’
‘দুর্নীতি বন্ধ হলে সিঙ্গাপুরের লোক চাকরি করতে আসত’
রংপুর বিভাগের উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়নসহ ১৩টি দাবি তুলে ধরেন এ টি এম আজহার। তিনি বলেন, গত ৫৪-৫৫ বছরে দেশের উন্নয়নের জন্য সমস্যা সংকট টাকা নয়, সমস্যা হচ্ছে অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের। দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে সিঙ্গাপুরের লোক বাংলাদেশে চাকরি করতে আসত।
রংপুর বিভাগের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান আজহার। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে এ অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও পৃথক উন্নয়ন কর্মসূচি নিতে হবে।
আখতারুজ্জামান জামায়াতের ‘নেতা’ নন
সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গেও ব্রিফিংয়ে কথা বলেছেন এ টি এম আজহারুল। তিনি দাবি করেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই আখতারুজ্জামানকে জামায়াতে ইসলামীর ‘নেতা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন, তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য।
আখতারুজ্জামানের সাংগঠনিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে আজাহার বলেন, ‘উনি জামায়াতের নেতা নন। তিনি সহযোগী সদস্য বা প্রাথমিক সদস্য হয়েছেন। জামায়াতে প্রাথমিক সদস্য হওয়ার পর কর্মী, তারপর সদস্য এবং এরপর নেতা হওয়া যায়। আখতারুজ্জামান সিম্পল সদস্যমাত্র।’
বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করার কারণেই আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন আজহার। এ বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধান না করে সরকার আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে। আইনের আশ্রয় নেওয়ার নামে আইনকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমনের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে রংপুর বিভাগে জামায়াত থেকে নির্বাচিত আরও ১৩ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী–২ আসনের আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী–৩ আসনের ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী–৪ আসনের আব্দুল মুত্তাকিম, রংপুর-১ আসনের রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের মাহবুবুর রহমান (বেলাল), রংপুর-৫ আসনের গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা-১ আসনের মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা–২ আসনের আব্দুল করিম, গাইবান্ধা–৩ আসনের আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং গাইবান্ধা-৫ আসনের আব্দুল ওয়ারেছ। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।