ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তিতুমীর কলেজ শাখার লাগানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ক্যাম্পাসের বাঁশেরকেল্লা ক্যান্টিনের পাশে একটি ব্যানার ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। তবে কে বা কারা ব্যানারটি ছিঁড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নবীন শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও রেজিস্ট্রেশনে উদ্বুদ্ধ করতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তিনটি ব্যানার লাগায় শাখা ছাত্রশিবির। তবে শনিবার বিকেলে সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, তিনটি ব্যানারের মধ্যে দুটি অক্ষত রয়েছে। অন্যদিকে, বাঁশেরকেল্লা ক্যান্টিনের পাশে লাগানো একটি ব্যানার ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে।
এ বিষয়ে কলেজের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কারা বা কখন এসে ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলেছে, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সোহেল রানা বলেন, ‘২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ উপলক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সহজ করতে ক্যাম্পাসে আমরা তিনটি ব্যানার লাগিয়েছিলাম। নবীন বরণ শেষ হওয়ার পর ব্যানারগুলো আমরাই সরিয়ে ফেলতাম। কিন্তু তার আগেই কে বা কারা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘নবীন বরণকেন্দ্রিক এসব ব্যানার কোনো রাজনৈতিক ব্যানার নয়, বরং শিক্ষার্থীবান্ধব একটি কর্মসূচির অংশ। আমরা ক্যাম্পাসে ব্যানারকেন্দ্রিক রাজনীতি করি না, ভবিষ্যতেও করব না। এ ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কারা এ কাজ করেছে, তা খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রশাসনের জবাবদিহি চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা হলে ছাত্রশিবির তা মোকাবিলা করবে।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এটিকে আমাদের নবীন বরণ আয়োজনের পথে কোনো বাধা হিসেবে দেখছি না। আমরা নবীন বরণ করেই শেষ করব, যেকোনো মূল্যে। এর আগেও আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এসব ঘটনাকে আমরা উসকানি হিসেবে দেখছি। তবে আমরা এই উসকানিতে পা দেব না। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছি। তাদের নবীন বরণ সম্পন্ন করেই আমরা ক্ষান্ত হব।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সাধারণ কোনো শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার কথা নয়। এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে, যারা আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে পারে না। এভাবে ব্যানার ছিঁড়ে তারা বাধা সৃষ্টি করছে। গতবারও নবীন বরণের ব্যানার ছিঁড়ে তারা একটি অঘটন ঘটিয়েছিল।’