মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাম্প্রতিক অন্তত দুইটি ঘটনায় সরকার অপরাধ ও অনিয়মের ঘটনায় প্রতিবাদকারীর ওপরে খড়গহস্ত হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এছাড়া অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি না করে অপরাধ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অন্তত দুটি অপরাধ ও অনিয়মের ঘটনায় সরকার প্রতিবাদকারীদের ওপর খড়গহস্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে অপরাধ ও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের উচিত প্রতিবাদকে স্বাগত জানানো।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, রাজধানীতে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর তিনি তাৎক্ষণিক যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকেই মুখ্য করে তোলা হয়েছে। পরে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠায়।
অন্যদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের ভোগান্তির ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় ৩ অক্টোবর আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দীর্ঘ ভ্রমণের পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা হয়রানির শিকার যাত্রীরা প্রতিবাদে মার্জিত হতে পারলে ভালো। তবে কারও আচরণ অমার্জিত হলে তার আইনগত দায় থাকতে পারে। কিন্তু এর কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা রাষ্ট্রের নিপীড়ক চেহারাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, অপরাধ ও অন্যায়ের প্রতিবাদকারীকে হেনস্তা করা হলে অপরাধ ও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। এতে অপরাধী ও অন্যায়কারীরা সাহস পায় এবং রাষ্ট্র অত্যাচারী হয়ে ওঠার পথ তৈরি হয়। এটা হতে দেওয়া যাবে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিবাদকারীদের ওপর খড়গহস্ত হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারকে এ মানসিকতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানায়।