রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ‘যৌন ডাক্তার’ বলে অপপ্রচার, অন্যদিকে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ডিপফেক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভুয়া ওষুধ বিক্রির প্রতারণা— এসবের বিরুদ্ধে এবার মুখ খুলেছেন চিকিৎসক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
শনিবার (৮ আগস্ট) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডা. তাসনিম জারা লেখেন, বেশ কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাকে ‘সেক্স ডাক্তার’ বা ‘যৌন ডাক্তার’ বলে প্রচার চালিয়ে হেয় করার, লজ্জা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি মেডিসিনের চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও এতদিন এই অপপ্রচারের কোনও জবাব দেননি।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, “এক. আমি যদি ব্যস্ত হয়ে বলতাম, ‘না না, আমি ও-রকম ডাক্তার নই,’ তাতে হয়তো তাদের বিকৃত ধারণাটাকেই সায় দেওয়া হতো যে যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হওয়া বুঝি সত্যিই লজ্জার।
“এতে অন্যায় হতো সেই ডাক্তারদের প্রতি, যারা যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন। মানুষের এমন অনেক কষ্ট আছে, যা সে মা-বাবাকে বলতে পারে না, বন্ধুকে বলতে পারে না, এমনকি অনেক সময় নিজের স্বামী বা স্ত্রীকেও না। এদের পাশে সহায় হয়ে দাঁড়ান এই চিকিৎসকেরাই। তাদের হাতে ভাঙা সংসার জোড়া লাগে, নিঃসন্তান দম্পতির কোলে সন্তান আসে, গভীর হতাশা থেকে মানুষ আলোয় ফেরে। এমন মহান পেশার নাম গালি হবে কেন?”
এরপর দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি লেখেন, “দুই. দ্বিতীয় কারণটা রোগীদের নিয়ে। আমি যদি এই ট্যাগ ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত হতাম, তাহলে এমন ধারণায় সায় দেওয়া হতো যে যৌন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে নেই। অথচ এই লজ্জার দাম প্রতিদিন গুনছে অসংখ্য মানুষ। সংকোচে ডাক্তারের কাছে যায় না, হাতুড়ের খপ্পরে পড়ে, ভুল ওষুধ খায়, বছরের পর বছর নীরবে কষ্ট সইতে থাকে।
“মাঝে মাঝে চোখে পড়ে, কেউ লিখেছেন, ‘যৌন ডাক্তার এখন দেশ চালাবে!’ এসব দেখে মায়া হয়। এরা নিজেকে প্রগতিশীল বলে পরিচয় দিতে চান, অথচ সত্যিকারের প্রগতিশীলতার জন্য যে জ্ঞান আর সহানুভূতিশীল আচরণ শেখা প্রয়োজন, তা রপ্ত করতে পারেননি। ‘যৌন ডাক্তার’ কথাটাকে তারা গালি ভাবেন না-জানা থেকে, কূপমণ্ডূকতা থেকে। কুয়োর ভেতর থেকে আকাশটা ছোট দেখায়, সে দোষ তো আকাশের নয়।”
এতদিন কিছু না লিখে আজ কেন এসব লিখছেন এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, “এখন আসি, এতদিন কিছু না লিখে আজ কেন লিখছি।
“গতকাল রাতে এক শুভাকাঙ্ক্ষী একটা স্ক্রিনশট পাঠিয়েছেন। সেখানে দেখলাম, আমার নাম-ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ১৬০টি বিজ্ঞাপন চলছে।
“এই অপপ্রচারের কৌশলটা লক্ষ করার মতো। হাজার হাজার ডলার খরচ করে আমার ছবির সঙ্গে অশ্লীল কথা জুড়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছে; তারপর সেই বিজ্ঞাপনেরই স্ক্রিনশট ছড়িয়ে বলা হয়েছে, ‘দেখুন, ইনি এই সব বিক্রি করেন! এমন অশ্লীল কথা বলেন!’ এভাবে নাটক সাজিয়ে প্রমাণ তৈরি করেন।
“আর সেই নাটকের সুযোগে নেমে পড়েছে একদল প্রতারক। আমার নাম-ছবি বসিয়ে বিক্রি করছে ওষুধ, স্লিমিং পণ্য, হরেক রকম ‘চিকিৎসা’।”
তিনি স্পষ্ট করেন, “আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ওষুধ বিক্রি করি না। কোনও স্লিমিং পণ্য বিক্রি করি না। কোনও চিকিৎসা, কোনও ট্রিটমেন্ট বিক্রি করি না। আমার নাম বা ছবি দিয়ে যেখানে যা-ই বিক্রি হচ্ছে, তার সবটুকুই প্রতারণা। এসবের নিচে আবার প্রতারক চক্র কমেন্ট করে রাখেন অনেক উপকার পেয়েছি।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য আমাদের তৈরি একটা অ্যাপ আছে: Shohay Pregnancy। সেখানেও কোনও পণ্য বিক্রি হয় না। অধিকাংশ মানুষ অ্যাপটা ফ্রিতে ব্যবহার করেন; কেউ কেউ অ্যাপের প্রিমিয়াম ভার্শন কিনে ব্যবহার করেন।
“তাই আমার নামে কোনও ওষুধ, চিকিৎসা বা প্রোডাক্টের ছবি বা ভিডিও চোখে পড়লে নিশ্চিন্তে ধরে নেবেন, এগুলো প্রতারকদের কাজ। এসব তো কিনবেনই না, আশেপাশের কাউকে কিনতে দেখলে সতর্ক করে দেবেন। বিশেষ করে যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন কিন্তু সব প্রতারণার কৌশল বুঝেন না।”
সবশেষে তিনি লেখেন, “শেষ কথা, যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে যারা কাজ করেন, সেই চিকিৎসকদের প্রতি রইলো আমার শ্রদ্ধা। আপনার কোনও যৌন সমস্যা থাকলে ডাক্তারের কাছে যেতে সংকোচ করবেন না। অনেক রোগের ক্ষেত্রেই যত দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন, তত ভালো।”