পদ্ম সেতু চালু হওয়ার পর বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত হয়েছে পাঁচটি। এ সড়কে যানবাহন চলাচল বেড়েছে অন্তত চার গুণ, কিন্তু মহাসড়কের প্রশস্ততা বাড়েনি। অপ্রশস্ত মহাসড়কের ব্যাপক যানবাহন, বেপরোয়া গতি, তিন চাকার যানবাহনের কারণে বরিশাল-ঢাকা মহাড়ক এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
মহাসড়কের প্রশস্ততা বাড়ানো, তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ ও অভিজ্ঞ চালক দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট গতিসীমার মধ্যে যানবাহন চলাচল করলে দুর্ঘটনা কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত সাত মাসে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে অন্তত ৬০-৭০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আহত হয়েছে শতাধিক যাত্রী। এসব দুর্ঘটনা মহাসড়কের মাহিলারা থেকে বার্থী এলাকায় ঘটেছে। দুর্ঘটনাগুলো ঘটনার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, অপ্রশস্ত সড়কে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেক করা ও মহাসড়কের সংযোগ থেকে তিন ও দুই চাকার যানবাহন উঠে পড়ার কারণে ঘটেছে। এ ছাড়াও মহাসড়কের বাড়ানো অংশে ব্যাপক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতেও দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়ক না বাড়ালে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা কমবে না।
গৌরনদী মহাসড়ক থানার ওসি মো. মহসিন হোসেন জানান, বরিশালের ভুরঘাটা থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার মহাসড়ক তার আওতাধীন। মহাসড়কের দুর্ঘটনা প্রবণ পাঁচটি এলাকাকে ব্ল্যাক স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো- গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, ইল্লা, কটকস্থল, উজিরপুর উপজেলার সোনারবাংলা ও রামগতি। এ ছাড়াও গৌরনদীর বার্থী, টরকী, আশোকাঠি, মাহিলাড়া, বাটাজোর, উজিরপুর মোড়াকাঠি, সানুহার, জয়শ্রী ও ইচলাদী অংশও ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি জানান, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে কী পরিমাণ তিন চাকার যানবাহন চলে তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। প্রায় অভিযান করে মামলা করা হয়। যানবাহন আটক করা হয়। কিন্তু ছাড়া পেয়ে আবার চলাচল শুরু করে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সার্ভিস লেন করা জরুরি। তা না হলে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। বিআরটিএর উপপরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচার করার পরেও প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মহাসড়ক প্রশস্ত করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।