Image description

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলটির সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে আগামী শনিবার দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে। এরপর জোটের শরিকদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করা হবে। আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে শনিবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে ১১-দলীয় ঐক্যের একাধিক সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নয়, বর্তমানে তাদের প্রধান রাজনৈতিক অগ্রাধিকার রাষ্ট্রীয় সংস্কার, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের (রেফারেন্ডাম) রায় আদায় করা। সংসদে বর্তমান আসন সংখ্যার হিসাব বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার বাস্তব রাজনৈতিক গুরুত্ব তেমন নেই।

সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা মনে করেন, যেহেতু সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তাই জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকায় দলটি যাকে প্রার্থী করবে, তারই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে কারণে বিরোধী দল প্রার্থী দিলেও নির্বাচনের ফলে তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও তার সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রশ্নে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ তৈরি হতো, তখন হয়তো প্রার্থী দেওয়ার চিন্তাভাবনা করলে করা হতো।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কালবেলাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী শনিবারের বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

জানা গেছে, আগামী শনিবার ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শরিক দলের শীর্ষ নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরবেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা কালবেলাকে বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচন কমিশন কেবল তপশিল ঘোষণা করেছে। দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জুলাই জাতীয় সনদে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান হলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে রাষ্ট্রপতি কারও সুপারিশ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বিইআরসির চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে। তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের সপ্তম ধারা অনুযায়ী, বৈধ প্রার্থী একজন হলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট হবে।

সংবিধানে বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। এমনকি দেশের ইতিহাসে বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দাঁড়ানোর নজিরও আছে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। ফলে মেয়াদপূর্তির আগেই ইসিকে এ নির্বাচন আয়োজন করতে হচ্ছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।