Image description

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে সরকারি দল বিএনপি জোট ও বিরোধী দলগুলো। বিশেষ করে সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল চাইছে, জুলাই সনদ অনুযায়ী ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ, অন্যদিকে সরকারি দল বিএনপি বলছে, সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে হবে উচ্চকক্ষ। জুলাই সনদে এ নিয়ে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ও দিয়েছিল। তাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও উচ্চকক্ষের বিষয়টি উল্লেখ ছিল।

এরই মধ্যে সংবিধান সংশোধন নিয়ে কাজ শুরু করছে সরকারি দলের ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি। বিরোধী দল থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। গত ৪ আগস্ট সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি প্রথম বৈঠক করে। প্রথম বৈঠকে সংবিধান সংশোধনে অংশীজনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর বাইরে তেমন আলোচনা হয়নি। তবে বৈঠক শেষে জানানো হয়, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বিবেচনায় নেওয়া হবে।

উচ্চকক্ষের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কালবেলাকে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এগুলো এখনো আলোচনা হয়নি। তবে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সবাই আন্তরিক। সংবিধান সংশোধন করতে গেলে সংবিধানের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় আছে, সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখব।’ জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সময় বিএনপির অবস্থান যেভাবে ছিল, সেভাবে হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে আন্দোলন করেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘সংস্কারের আলোচনা চলমান আছে; আন্দোলন হচ্ছে। আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সংস্কারের রায় বাস্তবায়ন হলে উচ্চকক্ষ গঠন হতে পারে।’ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে কীভাবে উচ্চকক্ষ গঠন হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে উচ্চকক্ষ গঠন অনিশ্চিত। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমেই উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। কারণ রায়ে কীভাবে গঠন করতে হবে তা বলা আছে। বিএনপি তো জুলাই সনদকে মানতে চায় না। তারা জুলাইকে মুছে দিতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি না থাকলে উচ্চকক্ষের কোনো মূল্য থাকে না। উচ্চকক্ষ তখন অর্থহীন হয়ে যাবে, অকার্যকর হয়ে যাবে। উচ্চকক্ষ করার উদ্দেশ্য হলো ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’। সংসদের অনেক বিষয় আছে, তারা দেখবে ঠিক আছে কি না।’

এ নিয়ে কথা হয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের সঙ্গে। উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে তারও একই মত। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায়ের আলোকে উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়ার নিয়ে বিএনপির “নোট অব ডিসেন্ট” জনগণ খারিজ করে দিয়েছে। তারা পিআর পদ্ধতিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার পক্ষে একমত পোষণ করেছে। আমরা চাই, জনগণের মতামত প্রাধান্য দিয়ে উচ্চকক্ষ গঠন করা হোক।’

পিআর ছাড়া উচ্চকক্ষের বিষয়ে আপত্তি রয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের। দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য ছিল। বিএনপিও ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। তবে গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল। তারা পিআর পদ্ধতি মানবে না। সে হিসেবে আমাদের এখন পিআর ছাড়া উচ্চকক্ষকে আপত্তিজনক মনে করি। নিম্নকক্ষের অনুপাত হারে গঠন হলে উচ্চকক্ষে অর্থবহ কিছু হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি ছিল সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করে জুলাই সনদকে সেখানে প্রতিস্থাপন করা। কাজেই সেই জায়গাটায় সংশোধনের মাধ্যমে কী হচ্ছে, এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবছি না। এটা ভাবতে গেলে আমাদের মূল দাবিটা দুর্বল হয়ে যাবে। আমাদের শেষ কথা, সংস্কারই চাই। সংস্কারের মাধ্যমে সংবিধানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা আন্দোলনের মাঠে আছি।’

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানও বলেন, ‘জুলাই সনদে উচ্চকক্ষ গঠনের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা আছে, রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ পাস করিয়েছে। সেভাবেই উচ্চকক্ষ গঠন করা হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

তার ভাষ্য, নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষ হলে, সেটির দরকার নেই। উচ্চকক্ষটা নিম্নকক্ষ দিয়ে একটা এক্সটেনশন হলে তার প্রয়োজনই বা কী। এতে তো কোনো ব্যালেন্স হবে না; তাৎপর্যও থাকবে না। পিআর পদ্ধতিতে না হলে অযথা রাষ্ট্রের খরচ বাড়বে। উচ্চকক্ষ গঠনের উদ্দেশ্য হলো নিম্নকক্ষে কোনো কিছু অসামঞ্জস্যপূর্ণ থাকলে সেটা যাতে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়। এখন নিম্নকক্ষের মতোই যদি উচ্চকক্ষ হয়, তাহলে নিম্নকক্ষের রেশিও আসবে। আমরা বিএনপিতে বলেছি, জুলাই সনদ যেন তারা বাস্তবায়ন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। ৬৮ শতাংশ ভোটার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে মত দেন। এতে করে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনসহ জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।

জনগণ তাদেরকে দেশ পরিচালনায় ম্যান্ডেট দিয়েছে। দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে জাতীয় নির্বাচনে নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। আবার জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এ স্বাক্ষর করার আগেই বিএনপি উচ্চকক্ষ গঠনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল। সে কারণে, দলটির ভিন্নমতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় চূড়ান্ত জুলাই সনদে। সনদে বলা হয়, ‘কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে, তাহলে তারা সেই মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।’

২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরাও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেন। আর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করে। জুলাই সনদে ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ৩০টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বাকিগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত পোষণ) রেয়েছে। এই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তিনটি ধাপ নির্ধারিত আছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি গত বছরের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন।

সনদ বাস্তবায়নের গেজেটে বলা হয়েছে, গণভোট অনুষ্ঠানের পর, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফল অনুসারে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সংবিধান সংস্কার হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে এই আদেশের তপশিল-১ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। সংসদ সদস্যদের যিনি শপথ পড়াবেন, তিনিই পরিষদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন। জুলাই সনদ অনুযায়ী জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা দুটি শপথ নেন। তবে সংবিধানে বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপি জোট ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা। জামায়াত জোটে সাধারণ আসনের সংসদ সদস্যরা দুটি শপথ নিলেও সংরক্ষিত নারী আসনে বিজয়ীরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২৯০ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, জামায়াত এককভাবে ২২৭ আসনে নির্বাচন করে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তবে জোটবদ্ধ ভোটের হিসেবে বিএনপি ৫১ শতাংশের বেশি ও জামায়াত-এনসিপি জোট ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আবার আসন সংখ্যার হিসাবে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত-এনসিপি জোট জিতেছে ৭৭টি আসন।

এখন আসন সংখ্যার হিসাবে যদি জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করা হয়, তাহলে বিএনপি জোট ১০০টির মধ্যে ৭০টি, জামায়াতে ইসলামী অন্তত ২৬টি, এনসিপি দুটি আসন পেতে পারে। এর বিপরীতে ভোটের আনুপাতিক হারের বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠন হলে বিএনপি জোটের আসন কমে হবে ৫২ থেকে ৫৩টি, আর জামায়াত জোটের অন্তত ৩৮টি। জুলাই সনদে ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়ে বলা হলেও এ নিয়ে আপত্তি ছিল বিএনপির। এর বিপরীতে বিএনপি তাদের ইশতেহারে বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে উচ্চকক্ষ গঠন করবে আসন সংখ্যার ভিত্তিতে।

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার ভাষ্য, ‘দ্বিতীয় আরেকটি শপথের বিষয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যুক্ত করা হয়েছে, যার কোনো এখতিয়ারই নেই। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ হিসেবে সব আইন প্রশ্নয়ান করেছে। কিন্তু জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আদেশ জারি করেছেন, যা এ আমলে একমাত্র আদেশ। এ আদেশে একটি শপথ যুক্ত করেছেন। কোনো আদেশ দিয়ে এভাবে সংবিধানের বিধান পরিবর্তন করা যায় না। এমন কোনো আদেশ দিয়ে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন হয়ে যায়, সেই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়নি।’

এ আইনজ্ঞ আরও বলেন, ‘সংবিধান বাস্তবায়ন আদেশে তপশিল-১ বলে আরেকটি শপথ যুক্ত করেছে। আলাদা একটি আদেশ দিয়ে এভাবে বিকল্প করা যায়? সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে তৃতীয় তপশিলে যে শপথের নমুনা দেওয়া আছে, সে অনুযায়ী শপথ পাঠ করাবেন। কিন্তু এভাবে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন করে এভাবে শপথ ঢুকাবেন? এভাবে দ্বিতীয় শপথের আদেশ, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে আদেশ, সেটাই তো অবৈধ।’

অন্যান্য দেশে উচ্চকক্ষের ধরন:

জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে ৮৪টি দেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইন সভা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মো. আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, দেশগুলোর মধ্যে ৩৪ শতাংশ দেশেই জনগণের সরাসরি ভোটে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচন করা হয়। বাকিগুলোর কোথাও পিআর, কোথাও মিক্সড সিস্টেম চালু রয়েছে। যেমন ইংল্যান্ডে মিক্সড সিস্টেমে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে উচ্চকক্ষের সদস্য দেওয়া হয়। স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়ামে পুরোপুরি পিয়ার সিস্টেম চালু রয়েছে। মানে নিম্নকক্ষে যত শতাংশ ভোট পাবে, সে অনুযায়ী উচ্চকক্ষে মনোনয়ন দেয়। নিম্নকক্ষের সদস্যদের অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্ধারণের প্র্যাকটিস খুব বেশি নেই।

ভুটানের উদাহরণ দিয়ে আব্দুল আলীম বলেন, ভুটানের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ হলো ন্যাশনাল কাউন্সিল। এটি ২০০৮ সালের সংবিধানের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি নির্দলীয় পর্যালোচনা পরিষদ হিসেবে কাজ করে। পরিষদটি ২৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এবং সদস্যদের মেয়াদ পাঁচ বছর। ২৫ সদস্যের মধ্যে ২০ জন ভুটানের ২০টি প্রশাসনিক জেলা থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। বাকি ৫ জন সদস্য ভুটানের রাজা মনোনীত ও নিয়োগ করেন। ন্যাশনাল কাউন্সিলের কোনো সদস্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন না। ফলে সংসদের উচ্চকক্ষটি সম্পূর্ণভাবে নির্দলীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়।