বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে পোস্টারিং করেছে শাখা ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবন, মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এসব পোস্টার লাগানো হয়।
পোস্টারগুলোতে ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা কলেজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা’ শিরোনামে বিভিন্ন বক্তব্য লেখা ছিল। তবে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পোস্টারগুলো অপসারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পোস্টারিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়া ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ পারভেজ মোশাররফ বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অসামাজিক বক্তব্যের কারণে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে পোস্টারিং করা হয়েছে। সে সামাজিকভাবে মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। এভাবে তো একটা রাজনীতি হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক এজেন্ডা বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো, বিএনপিকে বিরোধিতা করা। এটা ছাড়া তাদের রাজনৈতিক কোন স্ট্যান্ড নাই। একটা নতুন দল হিসেবে, তাদের রাজনৈতিক মিশন, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য থাকবে। তারা রাজনৈতিকভাবে অবশ্যই সচেতন থাকবে।’
ছাত্রদলের এ নেতার ভাষ্য, ‘ তাদের রাজনৈতিক আদর্শ বিএনপির থেকে উন্নত হতে হবে। কিন্তু এনসিপির রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী সুস্থ ধারায় রাজনীতি করুক, আমাদের কোনো আক্ষেপ নাই। কিন্তু যদি প্রতিনিয়ত প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, তাহলে জনগণ ব্যবস্থা নেবে।’
অবাঞ্ছিত ঘোষণা সত্ত্বেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ঢাকা কলেজে আগমন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেবে, সেটিকে স্বাগত জানাব। তবে কোনো কর্মসূচি বা পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমরা সামাজিকতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেই সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করব।’
পোস্টারিংয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজ শাখার সদস্য সচিব সজিব উদ্দিন বলেন, ‘যাদের নাসীরউদ্দিন পাটোয়ারীকে নিয়ে চুলকানি রয়েছে, তারা বিএনপির রাজনীতির সাথে পরিচিত না, এরা গুপ্ত আওয়ামী লীগ। বিএনপি সাবেক নেতা ও বর্তমান কিছু বিরোধী দল ঘায়েল করার জন্য বেশি স্যাটায়ার করে বক্তব্য দেন, তখন তারা সেখানে দোষ খুঁজে পান না।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির নিলুফার মনি, ফজলুল রহমান, দুলু ও জেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর ভাষা জঘন্য। তারাই আবার ভাষা শেখায়, বিষয়টি হাস্যকর। ঢাকা কলেজ কারো বাবার না, এখানে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা যায় না। হয়তো অগ্রিম ভেবে রেখেছে চাঁদাবাজির তথ্য নাসিরুদ্দিন যেন ফাঁস না করে। এজন্য চাঁদাবাজরা এ কাজ করেছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘আমি কোনো পোস্টার দেখিনি। দুই-এক জায়গায় পোস্টার হয়তো ছিল। লোক পাঠানো হয়েছে, সম্ভবত তুলে ফেলা হয়েছে। কোনোভাবেই ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিবেশ অশান্ত হোক, আমরা তা চাই না।’