Image description

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান।

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সূত্রপাত ঘটে। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে অতি শিগগির বিচার করব। আমরা মনে করি, এখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ইন্ধন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীতে একটি ব্যানার কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

প্রদর্শনীস্থলে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে জামায়াতের পাঁচ নেতা ও বিএনপির এক নেতার ছবি সম্বলিক একটি ব্যানার সরিয়ে নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাপ দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবির নেতা মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। শিবিরের হামলায় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন বলে অভিযোগ করে ছাত্রদল।

এই ঘটনার জেরে প্রদর্শনীস্থলের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। দুই পক্ষের হাত থেকে লাঠি কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন প্রক্টর। তবে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা একটি বস্তায় করে ভাঙা ইট ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। পরে প্রক্টরের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি শিবিরের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে একটি ইট ছুড়ে মারলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেন। এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একাংশ ঘটনাস্থল ছেড়ে ক্যাম্পাস থেকে সরে যান এবং একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আমরা একটি কর্মসূচি আয়োজন করেছি। সেখানে একটি ব্যানার নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি ছিল। তারা প্রশাসনকে না জানিয়ে কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে আসে এবং আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি। এরপরও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় ছাত্রদলকে নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার টাঙানো হয়। আমরা ব্যানারটি সরানোর দাবি জানালে ছাত্রশিবির হামলা চালায়। এতে শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন। বহিরাগত শিবির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

উপাচার্য প্রফেসর ড.শওকাত আলী বলেন, আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। যারা আহত হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করব। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ক্যাম্পাসে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সব কিছু দেখব এবং যারা চিহ্নিত হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।