Image description

ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দুই দেশই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঢাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে যে, কারো সঙ্গে সম্পর্ক অন্য কারো বিরুদ্ধে নয়, বরং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, ভারত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ঢাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরো গতিশীল করতে চীন ইতোমধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর প্রস্তাব দিয়েছে। চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর হলো বেইজিংয়ের একটি প্রস্তাবিত যোগাযোগ ও বাণিজ্য পরিকল্পনা। এতে চীনের কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের মান্দালে হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর পর্যন্ত সড়ক ও রেল পথ তৈরি হবে। এটি চীনকে সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সাথে যুক্ত করবে এবং ইউনান প্রদেশ, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সহজ যাতায়াত ও বাণিজ্য নেটওয়ার্ক তৈরি। যা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যপক সাড়া ফেলেছে। অন্যদিকে ইউক্রেট-রাশিয়া যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে নাস্তানাবুদ এবং ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইলের পক্ষভুক্ত হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত হয়েছে। 

তারপরও যে সব দেশ মার্কিনীদের গুরুত্ব দেয় সে সব দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাঘ। ফলে ভারত ও বাংলাদেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাঘের মর্যাদা পাচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা ছাড়ার এক সাপ্তাহ আগে ৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছেন। যা বাতিলের দাবিতে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিবাদ চলছে। অন্যদিকে ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো গভীর করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঘটে যাওয়া চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের চৌকিদার ভারতও সেই দৌঁড়ে সামিল হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহল তৎপর। সার্জিও গোর ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহিভূতভাবে ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। সার্জিও গোরের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠকের পর দীনেশ ত্রিবেদী ছুটে গেছেন দিল্লি। এনিয়ে কূটনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। ঢাকায় সার্জিও গোর ও ভারতীয় হাইকমিশনারের শিষ্টাচার বহিভূত বৈঠক নিয়ে যখন কূটনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে তখন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার থেকে চীন কখনোই সরে আসবে না’। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চীন সর্বদা বাংলাদেশের জন্য এক বিশ্বস্ত ভালো বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও ভালো অংশীদার হয়ে থাকবে।’

এদিকে মার্কিন দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি ছুড়ে যান। সেখানে তিনি মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর মৃত্যুদন্ডপাপ্ত পলাতক আসামী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন এমন খবর ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাই নয় পলাতক শেখ হাসিনা আগামী ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন ভারতের গণমাধ্যম এমন খবর প্রচার করায় বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে ঢাকা কড়া বার্তা দিয়েছে দিল্লিকে। গতকাল ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ বার্তা দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে’।

কূটনৈতিক সুত্রের দাবি, সার্জিও গোরের এই ঢাকা সফর ছিল খুবই তৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফর করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার একান্তে বৈঠকও হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার চীনের সঙ্গে অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনা এগিয়ে নিয়েছে। তিস্তা মহাপ্রকল্প এবং প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র একদিকে বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন চায়; অন্যদিকে চীনকে যাতে বাংলাদেশের করিডোর সুবিধা না দেয় সে জন্য তৎপর। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শীতল সম্পর্ক থাকলেও নতুন সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতও সুসম্পর্ক গড়তে চায়। কারণ চীনের অর্থায়নে তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিলিগুড়ির ২২ কিলোমিটার ‘চিকের নেক’ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এটা হলে ভারতের মূল ভূখন্ডের সঙ্গে সেভেন সিস্টার্সের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

মার্কিন দূত সার্জিও গোরের ঢাকা সফরে দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর দীনেশ ত্রিবেদীর দিল্লি ছুটে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও লোকসভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠকের খবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চাউর হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের দিল্লির চোখে ঢাকাকে দেখতে চাচ্ছে। যা বাংলাদেশ কোনো ভাবেই মেনে নেবে না। মূলত চীন দীর্ঘদিন ধরে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, সেতু, টানেল ও শিল্প খাতে বড় বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে ভারত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে আশ্রয় দিলেও দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ, রেল, সড়ক, নৌ ও সীমান্ত সংযোগ জোরদারের পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা দিতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্র আবার বাণিজ্য, শ্রমমান, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং উচ্চমূল্যের বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় ওই সফরকে বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়া ছাড়া গতন্তর নেই।

এমন সময় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর ঢাকা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এর আগে সার্জিও গোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

কূটনৈতিক সুত্রগুলো বলছে, সার্জিও গর মূলত বাংলাদেশের কাছে মার্কিন প্রত্যাশা অনুযায়ী বাণিজ্য চ্ুিক্ত বাস্তবায়ন ও ট্র্যাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশার কথা জানাতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যান্ত ধীরস্থিরভাবে পরিস্থিতি ট্যাকল দেন। মার্কিন দূতকে তিনি যেমন অখুশি করেননি; তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রত্যাশা অনুযায়ী চীনের অর্থায়নে তিস্তা মহাপ্রকল্প এবং অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব গ্রহণ করবেন না এমন বার্তাও দেননি।

জানা যায়, বাংলাদেশ সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর শিষ্টাচার বহিভূতভাবে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশ-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা আরো জোরদারের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে সার্জিও গরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে’। অন্যদিকে সার্জিও গোর বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলেও মন্তব্য করেন’।

সার্জিও গোরের ঢাকা সফরকে কেবল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, সফরটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের মূল্যায়নের অংশ। সফরে তিনি সরকারের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ঢাকাকে ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা দেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের আগে বিনিয়োগ পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কেও ধারণা নেন।

এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করার পর বিশ্বে পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত আমেরিকা, চীন ও ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে অত্যন্ত আগ্রহ দেখাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতের বাংলাদেশ সফর বিষয়টিরই ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশকে ঘিরে প্রতিযোগিতা বাড়লেও ঢাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা। সার্জিও গোরের ঢাকা সফর বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতারই অংশ। এটি কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পরিবর্তিত ভূরাজনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানকে নতুনভাবে মূল্যায়নের একটি প্রচেষ্টা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার কৌশলগত অবস্থান ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশ যদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে সমানভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারে, যা প্রতিযোগিতাই দেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগে পরিণত হতে পারে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের চাপে চীনের অর্থায়নে তিস্তা মহাপ্রকল্প ও অর্থনৈতিক করিডোর প্রক্রিয়া থেকে বাংলাদেশের সরে যাওয়া হবে আত্মঘাতি।