Image description

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রার্থীদের প্রচার জোরদার হওয়ার পাশাপাশি দলীয় সমর্থন, জোটের সমীকরণ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে—স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তৎপরতা আরো গতি পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকেও বলা হয়েছে, আগস্টে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে প্রার্থী হওয়ার জানান দিচ্ছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এরই মধ্যে বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নিজ নিজ দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

জামায়াত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক এলাকায় একক প্রার্থী নির্ধারণ করেছে। তবে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। ফলে জাতীয় নির্বাচনের মতোই বিএনপির একক প্রার্থী বাছাই নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন দলের কেউ কেউ।

দলীয় প্রতীক ছাড়া এবার স্থানীয় নির্বাচনে নতুন কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

কোন নির্বাচন আগে হবে—ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ নাকি সিটি করপোরেশন, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

বিএনপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিজেদের মতো করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হলে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সাংগঠনিক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের বাইরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও এর ফলাফল আগামী দিনের রাজনৈতিক শক্তি-সামর্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের সক্ষমতা যাচাই এবং ভোটারদের মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রে এই নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান কী হবে সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়নি। নির্বাচনী ব্যয়, ব্যবস্থাপনার বিষয় আছে; এ বিষয়গুলো সমন্বয় করেই রোডম্যাপ ঠিক করা হবে।’