Image description

ঢাকা জেলা পরিষদ যেন একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ‘সোনার খনি’। প্রতিষ্ঠানটিতে নকশা জালিয়াতি করে অবৈধ দোকান বিক্রি, ভুয়া রসিদে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব লোপাট এবং ভুয়া বিল-ভাউচারে মসজিদের টাকা সাবাড় করার তথ্য উঠে এসেছে খোদ জেলা পরিষদেরই তদন্তে। জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহাবুবুর রহমানের সময়কালে ঘটে এমন দুর্নীতির ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাত বছরে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে আক্ষরিক অর্থেই এক লুটেরা সিন্ডিকেটের ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কেরানীগঞ্জে জেলা পরিষদ মার্কেটে নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত ৬৮টি দোকান থেকে কোটি কোটি টাকা সালামি ও ভাড়া তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার মূলহোতা নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসান। শুধু দোকান বাণিজ্যই নয়, উত্তরার অস্থায়ী কার্যালয় সংস্কারের নামে ১০ লাখ টাকার কাজকে সোয়া কোটি টাকার প্রকল্প দেখিয়ে এবং শোরুম থেকে নামানো নতুন গাড়ির ২৪ লাখ টাকার ভুয়া মেরামত বিল তুলে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এ ছাড়া ধামরাইয়ে সাবেক এমপি বেনজীর আহমদের গ্রামের সাতটি জামে মসজিদ উন্নয়নের বরাদ্দসহ প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকার গ্রামীণ প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমে দেখিয়ে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, মিরপুর মৌজার মূল্যবান সরকারি জমি ব্যাংক ড্রাফট ছাড়াই কৌশলে বরাদ্দ নিয়ে চলচ্চিত্র অভিনেতা ডিপজল ও রোজিনা এন্টারপ্রাইজসহ প্রভাবশালীরা লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন আইনি মারপ্যাঁচে।

কেরানীগঞ্জে জেলা পরিষদ মার্কেটের দুটি ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ড (বেজমেন্ট) থেকে শুরু করে পাঁচতলা পর্যন্ত মোট ৫০৪টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে মূল নকশা পরিবর্তন করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ৬৮টি দোকান। এসব দোকান বরাদ্দ দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা অগ্রিম (সালামি) এবং মাসিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করা হলেও তার এক কানাকড়িও সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। এমনকি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও দোকানগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধন করা হয়নি।

জেলা পরিষদের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে ১২টি, দ্বিতীয় ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে ৫০টি, নিচতলায় দুটি, দ্বিতীয় তলায় একটি, চতুর্থ তলায় দুটি, পঞ্চম তলায় দুটি এবং দক্ষিণ পাশের বর্ধিত অংশে আরও একটি অবৈধ দোকান তৈরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ৬৮টি দোকান কোটি কোটি টাকার সালামির বিনিময়ে বিক্রি করে সরকারি মার্কেটকে রীতিমতো ব্যক্তিগত ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসানের হাত ধরেই এসব দোকান অবৈধভাবে বিক্রি হয়েছে। শুধু দোকান বিক্রিই নয়, বরাদ্দের পর ভুয়া রসিদ তৈরি করে জেলা পরিষদের নামে নিয়মিত ভাড়া আদায় করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিয়মনীতি ভেঙে দোকান বরাদ্দ ও ভুয়া রসিদে টাকা তুলে তথ্য গোপন করার এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খন্দকারের নির্দেশে সার্ভেয়ার লোকমান হোসেন, উচ্চমান সহকারী শেখ মো. মাসুদ পারভেজ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে এম রাশেদুজ্জামানকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসান জেলা পরিষদের দুর্নীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। যদিও এখানে অনিয়মের সূত্রপাত আরও আগে থেকে, তবে তার সময়েই এ দুর্নীতি চরম ও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

আরও জানা গেছে, কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি মার্কেটের ভেতরে সমিতির নামে একাধিক অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এসব অফিস ব্যবহার করেই মূলত অবৈধ দোকান বাণিজ্য, প্রভাব বিস্তার এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থ লেনদেন চালানো হয়।

সম্প্রতি ঢাকা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ মার্কেট পরিদর্শনে গিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে চারতলা পর্যন্ত নকশাবহির্ভূত নির্মাণ ও ব্যাপক অনিয়মের সত্যতা পান। পরিদর্শনকালে তিনি বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করার নির্দেশ দেন। জেলা পরিষদ সূত্রের দাবি, বর্তমানে এ মার্কেট থেকে সপ্তাহে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে। ফলে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিগত সাত বছরে প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের হিসাবে যে বিশাল অঙ্কের গরমিল হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।

জানতে চাইলে নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসান কালবেলাকে বলেন, ‘আমি কাজ করেছি, কিন্তু কোনো অনিয়ম করিনি। আমি ছোট চাকরি করি। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করিনি।’

উত্তরার কার্যালয় সংস্কারে সোয়া কোটির হরিলুট, নতুন গাড়ির মেরামত বিল ২৪ লাখ!: উত্তরার আজমপুরে ঢাকা জেলা পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজেও মিলেছে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য। চেয়ারম্যানের অব্যবহৃত বাসভবনকে অস্থায়ী কার্যালয়ে রূপান্তরের নামে কোটি টাকার এ প্রকল্প নেওয়া হয়। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ কলাবাগানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স অনেস্ট্রা লিমিটেড’কে দুটি পৃথক কার্যাদেশ দেওয়া হয়—যার একটির মূল্য ৭০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং অন্যটির মূল্য ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬৩১ টাকা। দুই কার্যাদেশে মোট প্রকল্প ব্যয় দেখানো হয় ১ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৬৩১ টাকা। তবে জেলা পরিষদের বর্তমান কর্মকর্তাদের দাবি, বাস্তবে সেখানে মাত্র ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার কাজ হয়েছে। নামমাত্র কাজ শেষ দেখিয়ে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিলে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন।

লুটপাটের একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর নবাবগঞ্জ মার্কেটেও। এই নতুন মার্কেটে ২০২টি দোকান রয়েছে, যেখানে দোকানদারদের কাছে বকেয়া ছিল ২ কোটি ১ লাখ ২ হাজার ৮২৫ টাকা। গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বকেয়া সালামি পরিশোধ না করলে সার্টিফিকেট মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ব্যবসায়ীরা কিছু টাকা পরিশোধ করলেও এখনো ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা বকেয়া রয়ে গেছে, যা আদায়ে রহস্যজনক ধীরগতি চলছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শোরুম থেকে নতুন গাড়ি কেনার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় সেটির পেছনে ২৪ লাখ টাকার ‘মেরামত ব্যয়’ দেখানো হয়। একটি নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে এত দ্রুত কীভাবে এত বড় অঙ্কের মেরামত বিল তৈরি সম্ভব—তা নিয়ে খোদ জেলা পরিষদের ভেতরেই নানা প্রশ্ন উঠেছে।

ধামরাইয়ে মসজিদ উন্নয়নের নামে বেনজীরের গ্রামে ৩ কোটির ভুয়া বিল: ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে সাবেক সংসদ সদস্য (ধামরাই) বেনজীর আহমদের গ্রামের বিভিন্ন প্রকল্পে চার অর্থবছরে মোট ৩ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতটি জামে মসজিদ উন্নয়নের নামে সাতটি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৭৫ টাকা। এ ছাড়া পশ্চিমপাড়া পুকুর ঘাটলা নির্মাণে ১৩ লাখ, মসজিদ থেকে নাটমন্দির পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়নে ১৬ লাখ ৬৭ হাজার এবং স্ট্রিট লাইট স্থাপনে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়।

জেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এ সাতটি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র একটির আংশিক কাজ করে সেই বিল উত্তোলনের আড়ালে বাকি ছয়টি প্রকল্পের টাকা সম্পূর্ণ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ কাজ বাস্তবে না হয়ে শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।

মিরপুর মৌজায় জমি ইজারা জালিয়াতিতে কাঠগড়ায় ডিপজল, রোজিনা এন্টারপ্রাইজ ও ইসমাইল: ঢাকা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মিরপুর মৌজার মূল্যবান সরকারি জমি ইজারা নিয়েও চলছে নয়ছয়। তথ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্র অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল মিরপুর মৌজার সিএস ১১০৬ এবং এসএ ০৪ নম্বর খতিয়ানের ৬৪০ নম্বর দাগের ৪০ হাজার ২৩০ বর্গফুট জমির ইজারা নবায়নের আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনের সঙ্গে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি তা না করে কালক্ষেপণ করেন। এ জমি বরাদ্দ বাবদ জেলা পরিষদের পাওনা ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৬০ টাকা তিনি পরিশোধ করেননি। উল্টো পরবর্তী সময়ে তিনি এ চুক্তি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে লিখিত অভিযোগ দেন এবং আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

একই খতিয়ানের ৬৪১ নম্বর দাগের ৭০ হাজার বর্গফুট এবং ৬৪০ ও ৬৪১ নম্বর দাগের ৪০ হাজার ২৩০ বর্গফুট অব্যবহৃত জমি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আয়ের উদ্দেশ্যে ‘রোজিনা এন্টারপ্রাইজ’কে ইজারা দেওয়া হয়। নিয়ম ভেঙে ব্যাংক ড্রাফট ছাড়াই কৌশলে এ জমি নিজেদের অনুকূলে বরাদ্দ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। পরে চুক্তি নবায়ন করা হলেও ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রোজিনা এন্টারপ্রাইজের কাছে জেলা পরিষদের বকেয়া দাঁড়ায় ৫ লাখ ৪১ হাজার ৪৪০ টাকা—যা তারা পরিশোধ করেনি।

একইভাবে এই মৌজার ৬৩৩ নম্বর দাগের ৪০ হাজার ৭২২ বর্গফুট জমি এক বছরের জন্য ১৯ লাখ ৮ হাজার ৮৪৪ টাকায় ইজারা নেন মো. ইসমাইল হোসেন নামের একজন। তিনি ইজারার ১১ লাখ ২৬ হাজার ৯৮৩ টাকা জমা দিলেও বাকি ৭ লাখ ৮১ হাজার ৮৬১ টাকা পরিশোধ না করে নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং বকেয়া আটকাতে আদালতে রিট দায়ের করেন।

এ ছাড়া ঢাকা জেলা পরিষদের আওতাধীন খেয়াঘাট ইজারা, ঢাকা জেলা পরিষদ বিদ্যমান পুরোনো ভবনের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ, অস্থায়ী কার্যালয়ে মাটি ভরাট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, জেলা পরিষদের মার্কেট, জমি, ডাকবাংলো অডিটোরিয়াম উন, অফিসের কাজের জন্য গাড়ি ভাড়া, কমিউনিটি সেন্টার মেরামত ও উন্নয়ন, অফিসে জন্য কম্পিউটার, অফিসের নিরাপত্তার জন্য ফ্লাড লাইট স্থাপন, পুরোনো আসবাব মেরামত ও বিক্রয়, কেয়ারটেকার শেড ও ড্রাইভার শেড নির্মাণ, বই ক্রয়সহ নানা কাজ করা হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ কাজেই অতিরিক্ত খরচ দেখানো হয়েছে। কোনো কোনো কাজ নামমাত্র করে সমাপ্ত করা হয়েছে, তবে বিল ঠিকই উত্তোলন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও ইসমাইল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

যা বললেন নবনিযুক্ত প্রশাসক: ঢাকা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি আজকে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও দিকনির্দেশনা মেনে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি এবং ভবিষ্যতেও করব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যে কোনো মূল্য অনিয়ম দুর্নীতি বিনাশ করতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন ও মেরামতের নামে ঢাকা জেলার পরিষদের টাকা আত্মসাৎ লুটপাট করেছেন সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ একটি চক্র। বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিল ঢাকা জেলা পরিষদ। এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। যথাযথ প্রমাণসাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলাদেশ গড়তে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কেরানীগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং নবাব মার্কেট থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বকেয়া রাজস্ব আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নকশাবহির্ভূত দোকানগুলো সিলগালা করা হয়েছে।