Image description

ভয়াবহ ভূমিকম্পের কয়েকদিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও সমন্বিত সরকারি সহায়তা না পৌঁছানোয় ভেনেজুয়েলাজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, সরকারের উপস্থিতি খুবই সীমিত এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে।

রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল হুনকিতোর বাসিন্দারা জানান, সেখানে খুব কম সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা গেছেন। ফলে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষই নিজেদের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার, পানি ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিকদের অভিযোগ তুলে ধরা কেইলি ইবারা বলেন, আমরা উত্তর চাই। ধ্বংসস্তূপ সরানো, ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত সহায়তা করা জরুরি। সরকারকে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এল হুনকিতোর বাণিজ্যিক এলাকার অধিকাংশ ভবন ধসে পড়েছে। যাদের থাকার আর কোনো জায়গা নেই, তারা খোলা মাঠে অস্থায়ী তাঁবু গড়ে বসবাস করছেন। তবে আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় মিষ্টির দোকান মালিক টনি আব্রেউ বলেন, আমরা জানি না কোথায় আমাদের রাখা হবে বা কতদিন এভাবে তাঁবুতে থাকতে হবে। আমাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন আর নিরাপদ নয়।

এদিকে, মাইকেতিয়া বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলও ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো ১৪০ জনের বেশি ভেনেজুয়েলার নাগরিক, যার মধ্যে সাতজন শিশু ছিল, অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছিলেন। তাদের স্বজনদের দাবি, ধসের ঘটনায় সেখানে অবস্থানরত অধিকাংশই নিহত হয়েছেন।

সরকারের 'রিটার্ন টু দ্য হোমল্যান্ড গ্র্যান্ড মিশন' কর্মসূচির আওতায় এসব প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের গ্রহণ করা হচ্ছিল। ভূমিকম্পের দিনই শিশুদের খেলনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থার বেশিরভাগ কার্যক্রম বর্তমানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে কেন্দ্রীভূত।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩০টি দেশ ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা দিয়েছে। এসব সহায়তার মধ্যে রয়েছে এক হাজার মেট্রিক টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী, তিন হাজার ৬০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১১৮টি অনুসন্ধানী কুকুর। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সহায়তা এলেও তা এখনো সমানভাবে সব এলাকায় পৌঁছায়নি।