আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং যমুনা সেতু মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখনো ঈদের ৬ দিন বাকি। এখনই পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। যানজট ছড়িয়ে পড়েছিল সাইনবোর্ড এলাকা পর্যন্ত। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ডেমরা-স্টাফ কোয়ার্টার সড়কেও দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। এর আগের দিনও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৭ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। এদিকে সাভার থেকে এলেঙ্গা চন্দ্রা পর্যন্ত প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। একই অবস্থা যমুনা সেতুর দুই পাড়েও। এপাড়ে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কের চার লেন উন্নয়নকাজ এখনো শেষ হয়নি। কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। কাজের ধীর গতির কারণে এ যানজট বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ সড়ক পরিবহন মন্ত্রী এ বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না। একজন ভুক্তভোগী বলেন, এই মুহূর্তে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর উচিত ছিল মহাসড়কগুলো পরিদর্শন করে সঠিক নির্দেশনা দেয়া। অথচ তা না করে গত মঙ্গলবার তিনি ঝালকাঠি গিয়েছিলেন সেতু উদ্বোধন করতে। এ রকম একজন মন্ত্রী কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পানÑতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। এই মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় এই অংশ নির্বিঘেœই যাতায়াত করতে পারছেন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪টি জেলার যাত্রীরা। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এলেঙ্গায় মহাসড়কের এ অংশে ফ্লাইওভারের কাজ চলমান থাকায় সংকুচিত হয়ে পড়ে মহাসড়কের এ অংশের প্রশস্ততা। ফলে প্রতিনিয়তই লেগে যাচ্ছে গাড়ির জট। ঈদে মহাসড়কের এ অংশ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়ক উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। ২০২২ সালের মার্চ মাসে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে পুনরায় তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। চালকরা জানান, রাস্তার কাজ কবে শেষ হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। কাজের তদারকি দরকার। যথাযথ তদারকি হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। প্রকল্পে মোট ৮টি ব্রিজ, ১০টি কালভার্ট, ৩টি আন্ডারপাস ও একটি ফ্লাইওভার রয়েছে। ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আন্ডারপাসের পাইলিং শেষ। ফ্লাইওভারে পাইলিংও শেষের দিকে। মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। বিশেষ করে এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাসের কাজ চলছে। আসন্ন ঈদ কেন্দ্র করে দ্রুত গতিতে কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে পরিবহন চালকরা বলছেন, ঈদ এলেই শুরু হয় তড়িঘড়ি কাজ। মহাসড়কের চার লেনের কাজ শেষ হয়েছে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। গত ঈদে চার লেনের কিছুটা সুবিধা পেলেও সার্ভিস লেনের কাজ শেষ করতে পারেনি। তবে এবারও মহাসড়কের চার লেনের সুবিধা পেলেও পুরোপুরি সুবিধা পাবে না এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা। এখনো মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কাজ করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের এসআর পরিবহনের একজন চালক বলেন, ঈদের সময় যানজট হবে এটিই স্বাভাবিক। এখনো মহাসড়কের কাজ শেষ হয়নি। আবার এলেঙ্গার পর থেকে সিঙ্গেল লাইন। ফলে ঈদ যাত্রায় এবার ভোগান্তি হবে। তবে পুলিশ প্রশাসনের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। ঈদ কেন্দ্র করে এবার মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন করছে সরকার। তাতে ভোগান্তি কমবে কিনা এ প্রশ্নে ওই চালক বলেন, অবশ্যই ভোগান্তি কমবে। কারণ, যানজট হওয়ার জন্য মহাসড়কের অবস্থা বা চলমান কাজ যেমন একটা কারণ চালকদের গাফিলতিও তেমনি আরেকটা কারণ। ঈদের ট্রিপ বাড়ানোর জন্য আইনকে তোয়াক্কা করে না কেউ কেউ। এরাই যানজটের সৃষ্টি করে। বিজিবি মোতায়েন থাকলে অনেক উপকার হবে। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ঈদযাত্রায় সেতুর ওপরে একাধিক গাড়ি বিকল হয়। ফলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস ব্যতীত সিটি সার্ভিসের ফিটনেসবিহীন বাসগুলোকে মহাসড়কে চলাচলে বাধা দিলেই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম জানান, যানজট নিরসনে মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে জেলা পুলিশের আট শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। মহাসড়ককে ৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। মহাসড়কে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। আশা করছি সবার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হবে না।
ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের ভিড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দুই মাস আগে ঈদুল ফিতরে একই অবস্থা হয়েছিল। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কোনো ভোগান্তি হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে গেল ঈদুল ফিতরে যে অবস্থা হয়েছিল সে কথা চিন্তা করে এবারও মানুষ ভোগান্তির আশঙ্কা করছে। একজন ভুক্তভোগী বলেন, আওয়ামী সরকারের সড়ক ও সেতু মন্ত্রী অসুস্থ শরীর নিয়ে ঈদ কেন্দ্র করে ঘরে বসে থাকেননি। বরং তিনি মহাসড়কগুলোতে ঘুরে ঘুরে সুবিধা-অসুবিধাগুলো জানার চেষ্টা করেছেন। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ বর্তমান সড়কপরিবহন মন্ত্রী এখনও এমন নজির স্থাপন করতে পারেননি। এজন্যই যত ভয়,শংসয়।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এখন থেকেই যানজট ঘরমুখো যাত্রীদের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে এশিয়ান হাইওয়ে ব্যবহার করছে অধিকাংশ যানবাহন। এতে গত বুধবার সকাল থেকে মদনপুর এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট ছিল। ভুক্তভোগীরা জানান, কদিন ধরেই পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগেই আছে। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ডেমরা-স্টাফ কোয়ার্টার সড়কেও দীর্ঘ যানবাহনের সারি ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুরে মদনপুর, কাঁচপুর, সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও দূরপাল্লার বাসগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা। চালকরা জানান, ভুলতা-গাউছিয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও বড় বড় খানাখন্দের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ যানবাহন এশিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠে আসে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে না পারায় মদনপুর এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হয়ে এবং তা ধীরে ধীরে ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলমান থাকায় এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতি কমিয়ে চলতে হচ্ছে। কোন কোন স্থানে আবার একমুখী চলাচল করতে গিয়ে অনেকক্ষণ গাড়িগুলোকে থেমে থাকতে হচ্ছে। সিলেট রুটের সোহাগ পরিবহনের একজন চালক জানান, সড়কের কাজ চলমান থাকায় এমনিতেই এই মহাসড়কে চলাচল করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তার উপর এবার ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর একমাত্র উপায় মহাসড়কে সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চলাচল করা। এজন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার। তা না হলে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে একবার যানজট সৃষ্টি হলে সেই যানজট আর নিরসন করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরো বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
বিজিবি মোতায়েন
ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে শপিংমল, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো.শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিতকল্পে রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘœ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা, মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রমে সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে ঈদের ৭ দিন আগে থেকে ঈদের পরবর্তী ৩ দিন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা জানান, ঈদ সামনে রেখে যানবাহনের চাপ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড মোড় থেকে এবং আশুগঞ্জের গোল চত্বর এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঈদ যাত্রা এবং ঈদ পরবর্তী রাজধানীতে ফেরা নিয়ে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রীসহ পরিবহন চালকেরা। এ অবস্থায় ভোগান্তি লাগবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা।
সড়ক নির্মাণ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার দুইলেন থেকে চারলেনে মহাসড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকে অনুমোদন হয়। পরে নানা সমীক্ষা যাচাই বাছাই শেষে গত ২০২০ সালের মার্চ মাসে ৩টি প্যাকেজে ৫১ কিলোমিটার মহাসড়কের কাজ শুরু করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এরমধ্যে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার চারলেন সড়কের কাজ গত ৮ বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে প্রায় প্রতিদিনই আশুগঞ্জ গোল চত্বর এবং বিশ্বরোড মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূর পাল্লার যাত্রী এবং চালকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
সিলেটগামী শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক বাবুল মিয়া জানান, আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত আসতেই আমাদের দিন শেষ। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ভৈরব আসতে ২ ঘণ্টা সময় লাগে। অন্যদিকে আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার আসতে সময় লেগে যায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। তিনি আরো বলেন, এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশের কথা মনে পড়লে দূরপাল্লার গাড়ি চালাতে ইচ্ছে করে না।
এ ব্যাপারে বিশ্বরোড খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট শাহজাহান আলী জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গত কয়েকদিন ধরে যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যেই অন্তত ২৫ জন পুলিশ সদস্য হাইওয়ে থানায় যোগ দেবেন। এতে মহাড়কটিতে ভোগান্তির মাত্রা কিছুটা হলেও কমবে।
চান্দিনা (কুমিল্লা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ঈদুল আজহার ছুটি শুরু না হতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার প্রতিটি স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট যানজট প্রতিনিয়ত তীব্র আকার ধারণ করছে।
গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার চান্দিনা-বাগুর বাস স্টেশন, মাধাইয়া বাস স্টেশন ও চান্দিনা-দাউদকান্দি উপজেলার সীমান্তবর্তী ইলিয়টগঞ্জ বাস স্টেশনে বিক্ষিপ্তভাবে যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদ ছুটির আগেই যানবাহনের চাপ সামলাতে যেন হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। এতে গাড়ি চালক থেকে শুরু করে যাত্রীদের মাঝে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ থেকে চান্দিনা-বাগুর বাস স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে- যাত্রী পরিবহনের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গরু বোঝাই ট্রাক, পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের চলাচল। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে কোনো স্টেশন এলাকায় যদি কোনো যানবাহন অবৈধ পার্কিং করে তাতেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আর মুহূর্তেই ওই যানজট তীব্র দীর্ঘ হচ্ছে। এতে ভ্যাপসা গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসের যাত্রী সোলেমান হোসেন জানান- ঢাকা থেকে ফেনী যেতে সর্বোচ্চ তিন থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগতো। আজ সকাল ৭টায় বের হয়ে পাঁচ ঘণ্টায় চান্দিনায় পৌঁছেছি। মদনপুর থেকে শুরু করে দাউদকান্দি টোলপ্লাজা, ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা বাস স্টেশন সব জায়গাতেই যানজট।
যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা তেমন চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ওসি মো. জাকির সিকদার বলেন, ঈদ কেন্দ্র করে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। উল্টো পথে যান চলাচল বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।