ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে ১১ দলীয় জোটে চলছে নানা হিসাবনিকাশ ও আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ, জোটগত সমন্বয় এবং দলীয় কৌশলে নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। ঢাকার দুই সিটিতেই প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে জোটের প্রধান দুই দল জামায়াত ও এনসিপি। ঢাকা দক্ষিণে দুই দলের তরুণ দুই প্রার্থী নিয়ে আলোচনা থাকায় অনেকটা নীরব দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
ডাকসু’র ভিপি সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী করতে চাইছে জামায়াত। অন্যদিকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করতে চাইছে এনসিপি। আসিফ নিজেও নির্বাচন করতে ব্যাপক আগ্রহী।
গত শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল সম্মেলনে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম প্রস্তাব করা হয়। যদিও দলটির পক্ষ থেকে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরে দেয়া হবে। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দক্ষিণের সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে দল থেকে জানানো হয়েছে। ঢাকা উত্তর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন দীর্ঘ দিন থেকেই প্রার্থী হতে কাজ করছেন। দলের নির্দেশনায় তিনি নানা সেবামূলক কাজে যুক্ত হয়েছে।
এ সিটিতে এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব লড়বেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণে সাদিক কায়েমের নাম ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনার মধ্যেই অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, শিবিরের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বা প্রার্থী হতে পারবেন না। এমনকি কোনো দল থেকেও তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্ব শেষে ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া বা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
১১ দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় নির্বাচনে জোট করার পক্ষে নয় জামায়াতে ইসলামী। তারা নিজ নিজ দলগুলোকে প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়ে বলছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেহেতু দলীয় প্রতীক থাকছে না; সেহেতু বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জের। স্থানীয় নির্বাচনে যেকোনো দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মোকাবিলা করাটা বেশ কঠিন। যার কারণে জামায়াত-এনসিপি নিজেদের মতো করে প্রার্থিতা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে। তবে আলোচনা চলমান রয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে। শেষ সময়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এই অবস্থান সামনে আসার পর জোট রাজনীতির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যদি সিটি নির্বাচন ডাকসু’র বর্তমান মেয়াদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে মেয়াদ শেষে নির্বাচন হলে তাকে সামনে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যেও প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে চলছে আলোচনা। জোটগত সমঝোতার মাধ্যমে একক প্রার্থী দেয়ার কৌশল নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী তালিকা তৈরি করে তা নিয়ে শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগও রয়েছে।
শনিবার বিকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লেখেন, আমি নির্বাচিত হলে, ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দাদের আর ময়লার বিল দিতে হবে না। এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না। আসিফ নির্বাচন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকলে নিজে নির্বাচন করেন আসিফ। তখন থেকেই আলোচনা ছিল ঢাকার সিটি নির্বাচনে তাকে দলীয় প্রার্থী করা হতে পারে।
সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মানবজমিনকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনগুলো নিজ নিজ দল থেকে করা হবে। এভাবেই আলোচনায় বলা হয়েছে। মেয়র প্রার্থী আমরা কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দেবো। ঢাকা সিটির নির্বাচনের বিষয়ে মিটিংয়ে (সাদিক কায়েম) সেদিন আলোচনা হয়েছে। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে ১২টি সিটি করপোরেশনেই প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহাবুব আলম মানবজমিনকে বলেন, নীতিগত কোনো সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়নি। উভয় দলের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে যেহেতু দলীয় প্রতীক থাকছে না, এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য প্রত্যেক দল নিজেদের মতো করে প্রার্থী বাছাই করছে।