Image description

এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা অংশ নিলেও দেখা যায়নি দলটির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বিডিপি, জাপগাসহ জামায়াত জোটের অন্যান্য দলের নেতারা অবশ্য অনুষ্ঠানে ছিলেন।
 
জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা এবং বহিষ্কৃত নেতারা ২০২০ সালের ২ মে গঠন করেন এবি পার্টি। যা ছিল জামায়াতের ইতিহাসে দল ত্যাগী নেতাদের দল গঠনের দ্বিতীয় ঘটনা। এ কারণে দল দুটির বৈরিতা ছিল। দুটি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সামাজিকমাধ্যমে বাগযুদ্ধ হয় নিয়মিত। ৫ আগস্টের পর জামায়াতের কর্মসূচিতে বিভিন্ন দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করা হলেও এবি পার্টিকে ডাকা হতো না।
 
তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জোট করে দল দুটি। এবিকে তিনটি আসন ছাড়ে জামায়াত। দলটি এখনও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে রয়েছে। এবি পার্টি নেতারা জোটের বৈঠক কর্মসূচিতে নিয়মিত। কিন্তু শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি জামায়াত নেতাদের।
 
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা আমন্ত্রিত ছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে জাপানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন জামায়াত আমির। গোলাম পরওয়ার ছিলেন খুলনায়।
 
অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়া অন্য আমন্ত্রিত নেতাদের একজন সমকালকে বলেছেন, 'এবি পার্টি ১১ দলীয় জোটে আছে, থাকবে। যেমন বিএনপির সাবেক নেতাদের দল এলডিপি বিএনপির জোটের ছিল। তাই বলে বিএনপি কী এলডিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করত?'

এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন। বিএনপি জোটের শরিক গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনও আসেন।

 

জামায়াত জোটের শরিকদের মধ্যে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামনুল হক, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আব্দুল কাদের, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কায়সার, ন্যাপের সভাপতি জেবালুর রহমান গণি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ নাফিসা মারওয়ারের বাবা আবুল হোসেন, শহীদ নাঈমা সুলতানার মা আইনুন্নাহার প্রমুখ।
  
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে দলটি সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় মঈন খান বলেন, এবি পার্টি গঠিত হয়েছে প্রতিবাদ থেকে। প্রতিবাদের মাধ্যমে সামনেও ভূমিকা রাখবে।
 
হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় অর্জন।

বক্তব্যে জুলাই শহীদদের নাম না নেওয়ায় প্রতিবাদ জানান শহীদ পিতা আবুল হোসেন। তাকে শান্ত করে হুইপ নিজান বলেন, ধৈর্য ধরে এগোলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব এবং জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেই আগামীর রাজনীতি গড়ে উঠতে হবে।

মামনুল হক বলেন, দলীয়করণ বন্ধ এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপে সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া বলেন, অভ্যুত্থানের আগে ছাত্রশক্তি গঠনেরপাশে ছিল এবি পার্টি। 

এবি পার্টি থেকে পদত্যাগ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করে তাজুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদের বিচার অব্যাহত রাখতে হবে।