Image description
মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই পর্যটন ভিসা চালু

দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামছে, তবুও ভিড় নেই। চারিদিকে এক অদ্ভুত শূন্যতা। কলকাতার মার্কুইস স্ট্রিট। একসময় যেখানে মানুষের পা রাখারও জায়গা থাকত না। আজ সেখানে শুধু অপেক্ষা। দোকানের শাটার খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই। রেস্তোরাঁগুলোতেও একই দৃশ্য। কলকাতার বুকে এক টুকরো ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত এই এলাকায় যেন এখন শুধুই শূন্যতার হাহাকার।

সড়কে নেই আগের সেই ব্যস্ততা। ছবি: আগামীর সময়

আর এই শূন্যতার মধ্যেই ভরসার আলো হয়ে এসেছে একটি খবর—খুব শিগগিরই ভারত-বাংলাদেশ পর্যটন ভিসা পরিষেবা ফের চালু হতে পারে। এখন সেই ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে আছেন মার্কুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, কিড স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডসহ আশপাশের এলাকার হাজারো ব্যবসায়ী।

মার্কুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, কিড স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের ব্যবসা বরাবরই বাংলাদেশের পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল।

এ অঞ্চলের ব্যবসা বরাবরই বাংলাদেশের পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। শেরওয়ানি, শাড়ি, সালোয়ারের দোকান, মোবাইল সিম বিক্রি, বাঙালি খাবারের হোটেল, ট্রাভেল এজেন্সি, মানি এক্সচেঞ্জ—এমনকি রাস্তার ধারের ছোট ছোট বিক্রেতারাও মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের ওপরেই নির্ভর করতেন। আর ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির সময় এ এলাকায় বিক্রি সবচেয়ে বেশি হতো। একটি বড় পোশাকের দোকানের মালিকের কথায়, ‘আগে এক দিনে পঞ্চাশের বেশি পোশাক বিক্রি হতো কিন্তু এখন দুই-তিনটি । তাও অতি কষ্টে!’

পর্যটক শূন্যতায় ভুগছে রেস্তোরাঁও। ছবি: আগামীর সময়

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যাতায়াতে সমস্যা এবং ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার ফলে এই পুরো অর্থনীতি ধাক্কা খেয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতার সংখ্যা হঠাৎ করেই তলানিতে নেমে এসেছে। সারা দিন বসেও একজন ক্রেতা পাচ্ছেন না দোকানিরা। এখানকার এক মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানালেন, ‘কয়েক বছর আগে দিনে প্রায় ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত লেনদেন হতো। সেটা নেমে এখন ৫০০ ডলারের নিচে।’

শুধু ভিসা চালু হলেই হবে না, মানুষের বিশ্বাস ফিরতে সময় লাগবে। যদিও এটাও একটা শুরু।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ভিসা চালুর সম্ভাবনা ব্যবসায়ীদের কাছে যেন খরা কাটার পূর্বাভাস। তাদের আশা, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও বাংলাদেশি পর্যটকরা ফিরবেন। আর তাতেই ঘুরে দাঁড়াবে এই এলাকা।

পর্যটক নেই হোটেলেও। ছবি: আগামীর সময়

যদিও বাস্তবের মাটি ছুঁয়ে থাকা এই মানুষগুলো জানেন, সবকিছু রাতারাতি বদলাবে না। এক ব্যবসায়ী বললেন, ‘শুধু ভিসা চালু হলেই হবে না, মানুষের বিশ্বাস ফিরতে সময় লাগবে। যদিও এটাও একটা শুরু।’ মার্কুইস স্ট্রিটের ফাঁকা দোকান, নিঃশব্দ রাস্তাগুলো যেন প্রতিদিনই প্রশ্ন করছে—কবে আবার ফিরে আসবে সেই চেনা কোলাহল, কবে আবার এখানে শোনা যাবে দুই বাংলার মিলনস্বর।

ফাঁকা দোকান, নিঃশব্দ রাস্তাগুলো যেন প্রতিদিনই প্রশ্ন করছে—কবে আবার ফিরে আসবে সেই চেনা কোলাহল, কবে আবার এখানে শোনা যাবে দুই বাংলার মিলনস্বর।

দিল্লির সাউথ ব্লকের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে দুই দেশই। ২০২৩ সালে প্রায় ২১ দশমিক ২ লাখ বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ৫ লাখে। ২০২৫ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংখ্যা আরও কমে প্রায় ৪ দশমিক ৭ লাখে নেমে আসে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিসা পরিষেবা চালু হওয়া শুধু প্রথম ধাপ। নজর দিচ্ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার দিকেও। বেগ পাচ্ছে কূটনৈতিক যোগাযোগও। খুব শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে দিল্লি ও ঢাকা, যা হাসি ফোটাতে পারে মার্কুইস স্ট্রিটের ব্যবসায়ীদের মুখে।