আজ থেকে ঢাকায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। চারদিনব্যাপী মাঠ প্রশাসকদের এই সম্মেলন শেষ হবে ৬ই মে। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব উঠার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিলবে ডিসিদের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চলতি বছরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর বিএনপি সরকারের অধীন এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা যায়, এবারের ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে আটজন বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিদের কাছ থেকে এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ৪৯৮টি প্রস্তাবের ওপর সম্মেলনে আলোচনা প্রাধান্য পাবে।
সম্মেলন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান মানবজমিনকে বলেন, এ বছর ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কার্যালয় ও সংস্থার বিষয়াদি ৩৪টি কার্য-অধিবেশনে আলোচনা হবে। এবার বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে মোট এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যাচাই বাছাই করে ৪৯৮টি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ প্রস্তাবগুলো নিয়েই সম্মেলনে আলোচনা করা হবে।
প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এরপর দুপুর ১২টায় হবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা। সমাপনী অধিবেশনও ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনেই হবে। এ ছাড়া এবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, তিন বাহিনীর প্রধান ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকরা সাক্ষাৎ করবেন। সূত্র জানায়, গত বছর ডিসি সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি রাখা হয়নি। স্পিকার না থাকায় স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎও হয়নি সেবার। এর আগের সব সম্মেলনেই রাষ্ট্রপতি-স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। এবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের নীতিনির্ধারক, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মধ্যে সামনাসামনি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য সাধারণত প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কার্য-অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশনের সময় ডিসিরা বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরবেন। কার্য-অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সূত্রে জানায়, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের প্রস্তাবে জনদুর্ভোগ কমানো, ভূমি ব্যবস্থাপনা, জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, দেশব্যাপী পর্যটনশিল্পের বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণসহ গুরুত্ব বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন ও দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ও উঠে এসেছে প্রস্তাবে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও এগুলোর কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও ডিসিরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যেন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেন সেজন্য আইন পরিবর্তন করার প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা।