বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া তিন নেতার বিরুদ্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার নামে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা প্ল্যাটফর্মের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সংগঠন নয়; এটি সাধারণ মানুষের প্ল্যাটফর্ম। এই সংগঠনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় অর্থ নিজেদের মতো ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তার দাবি, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলেও সংগঠনের অন্য নেতাদের অন্ধকারে রেখে সেই অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তারা অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতারা কোনো লিখিত নথি বা হিসাব না দিয়ে কেবল মৌখিকভাবে কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি কেন্দ্রীয় বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন রেখে দিয়ে পরে মৌখিকভাবে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কত টাকা এসেছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব বা কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটিকে না জানিয়ে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি অনুদান নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এ সময় বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহারের বিষয়ে অডিট করার এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান সিনথিয়া।
সিনথিয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সংগঠনকে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কাউন্সিল আয়োজন প্রয়োজন, যাতে সদস্যদের ভোটেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়।
এ ছাড়া গণভোটের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।