Image description

রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতাদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেছেন, সাধারণ জনগণ যদি মাঠে নেমে যায়, তখন কিন্তু পালানোর পথ থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনে আহত ডাকসু নেতাদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।

ফাতেমা তাসনিম জুমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজকে সবচেয়ে খারাপ লাগার জায়গা হলো— ছাত্রদল করার কারণে এক সময় গেস্টরুমে যাদের নির্যাতন করা হতো এবং মোসাদ্দেক-জুবায়েররা যাদের আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচিয়ে এনেছে, আজ তারাই তাদের ওপর হামলা করেছে।

তিনি ছাত্রদল সভাপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, রাকিব ভাই (ছাত্রদল সভাপতি) ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এবং জুবায়ের-মোসাদ্দেকের কাছে ‘সরি’ বলেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলো, সরি বলার পর তিনি আবার প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। হিপোক্রেসির এই যে রাজনীতি, আমরা আশা করব তারা এটা থেকে বের হয়ে আসবেন।

সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে জুমা বলেন, সারা দেশে তারা মব-সন্ত্রাস চালাচ্ছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যেভাবে হামলা করেছে সেটা কীভাবে মব-সন্ত্রাস হয় আমি জানি না। মিডিয়াগুলো যেভাবে ফ্রেমিং করছে, আমরা আপনাদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আশা করি। হামলার পেছনে যারা ছিল তারা ছাত্রদল, অথচ আপনারা বলছেন ‘জনরোষ’ বা ‘মব’। "

তিনি বলেন, যখন আমরা ভেতরে ছিলাম, তখন সেখানে শুধু ছাত্রদলের কর্মীরাই ছিল। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোসাদ্দেক ও জুবায়েরের ওপর এই অভিযোগে হাত তুলেছিল যে— তারা নাকি পোস্ট দিয়েছে ‘ছাত্রদলের হাতে চাপাতি আছে’। অথচ এ ধরনের কোনো পোস্টই তারা করেনি। তাদের ফোন আমার কাছেই ছিল। যখন আমি বললাম যে ফোন আমার কাছে এবং তারা কোনো পোস্ট করেনি, তখন তারা শান্ত হয়।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজকে সাংবাদিকরা আহত হয়েছেন, তারা দেখেছেন কারা হাত তুলেছে। আজকে ডাকসুর প্রতিনিধিদের ‘শিবির’ ফ্রেমিং করে হামলা করা সহজ হচ্ছে। কিন্তু এই হামলা যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আসবে, তখন তারা বসে থাকবে না।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা সারা দেশে সেভাবে হামলা চালাচ্ছে, এটার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ যদি মাঠে নেমে যায়, তখন কিন্তু পালানোর পথ থাকবে না। এটা যাতে তারা মাথায় রাখে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি বিকৃত ফটোকার্ড ছড়ানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শাহবাগ থানা এলাকা। এই ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ডাকসু দুই শীর্ষ নেতাসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। যদিও ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করেছে, যে পোস্টটি ঘিরে এত উত্তেজনা সেটি ‘ভুয়া’ ও ‘এডিট করা’ ফটোকার্ড।