বকেয়া টাকা চাওয়া এবং অনিয়ম করে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাহাদুর শাহ পার্ক সংলগ্ন কিউ জি সামদানী অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জবি শাখা ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের মারধর করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী জামিল ওয়াহেদ মুহিত।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ছিল। এ সময় হিমেলের অনুসারী সাইফ ও সুমন উল্টো দিক থেকে এসে লাইনের তোয়াক্কা না করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে উপস্থিত চালকরা প্রতিবাদ করলে তারা নিজেদের ‘হিমেলের লোক’ পরিচয় দেন। কর্মচারী জামিল ওয়াহেদ মুহিত অনিয়ম করে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আগের বকেয়া পরিশোধ করতে বলেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সুমন ফোনে মেহেদী হাসান হিমেলকে ডেকে আনেন।
অভিযোগ রয়েছে, হিমেল ঘটনাস্থলে ৫০-৬০ জন অনুসারী নিয়ে এসে মুহিতকে এক পাশে নিয়ে মারধর করেন। তাকে উদ্ধার করতে গেলে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বশিরও আহত হন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী জামিল ওয়াহেদ মুহিত বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমন ও সাইফ নামের দুজন লাইন ব্রেক করে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে বলে ‘এই লোড কর! হিমেল ভাইয়ের বাইক! হিমেল ভাই নারায়ণগঞ্জ যাবে।’ আমি তাকে চিনতে একটা সেলফি তুলে রাখি। গত পরশুর বকেয়া ১৫০০ টাকা ফেরত চাই। তাতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে জগন্নাথের ছাত্রদলের সভাপতিকে (আহ্বায়ক) ফোন দেয়। পরে ছাত্রদলের সভাপতি (মেহেদি হাসান হিমেল) এসে আমার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলে। সুমন টাকা কেন দেয়নি বকাবকি করে। পরে আমাকে ক্যামেরার বাইরে নিয়ে দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে ধরে হিমেলসহ ৫০-৬০ জন।
ভুক্তভোগী মুহিত আরও বলেন, হিমেল আমাকে বলে ‘তুই আওয়ামী লীগ করিস? তোর ফোন দে। ওই সেলফির ছবি ডিলিট কর। ট্রাশ থেকেও ডিলিট কর। একদম ঢুকাইয়া দিমু। তুই এরেস্ট। পেছনে হাত নে। এ ওরে ক্যাম্পাসে নিয়ে চল। কান ধর।’ হিমেল যা বলছিল, আমি ভয়ে তাই করছিলাম। এ সবের মধ্যেই আমাকে যার যেমন ইচ্ছে চড় থাপ্পড় দিতে শুরু করে।
কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন জানিয়ে মুহিত বলেন, আমি কোনো রাজনীতি করি না। ব্যবসা করি। আমার সঙ্গে কেন এমনটি হবে। ছবি তোলাটাই কি আমার অপরাধ। আমি কেন ছবি তুলছি, সেটা আমাকে জিজ্ঞেস করেন। তা না করে তারা আমাকে মারধর করেছে। আমি এখনো ট্রমাতে আছি। আমি নিজে লরির সামনে গিয়ে কান্না করেছি। ব্যবসা করতে গেলে কেন এমন হবে।
পাম্পের ম্যানেজার বশিরের সঙ্গে বাজে আচরণ করেছে জানিয়ে মুহিত বলেন, তাকে শার্টের কলারে ধরে একজন বলে, ‘কান ধর’। সে আমাদের মধ্যে বেশ সিনিয়র লোক।
মারধরের সময় পাশে পাঁচ-ছয়জন পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল জানিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী বলেন, মুহিত ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে প্রায় ৫০-৬০ জন। পাশে পাঁচ-ছয়জন পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের কাছে ঘেঁষতে নিষেধ করে জগন্নাথের কয়েকজন। তখন পুলিশ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।
কিউ জি সামদানি অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশনের মালিক কিউজি ফিরোজ সামদানি পাবলু বলেন, আমরা ব্যবসায়ী মানুষ। এমন ঘটনা আগে কখনো হয়নি। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমি ঘটনার সময় ছিলাম না। পরে এসে শুনি আমার ভাগ্নেকে মারধর করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছোট ভাই কয়েকজনের সঙ্গে একটু ঝামেলা করেছিল। পরে মিলমিশ করে দিয়ে আসছি।
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, না। ওখানে কোনো মারামারি হয়নি। ভবিষ্যতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলা না হয়, এ বিষয়ে মালিকের সঙ্গে কথা বলে এসেছি।
এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। যাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে, তারা নিজেরা সমাধান করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো ডায়েরি বা অন্য কিছু করা হয়নি।