বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তদারকিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সক্ষমতার বড় ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুুল হামিদ।
তাঁর মতে, বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হলেও এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নেই। তদারকির অভাবে গজিয়ে উঠছে অবৈধ হাসপাতাল।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালগুলো তদারকি করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এত বিপুলসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার দেখভাল করার মতো সক্ষমতা এসব প্রতিষ্ঠানের নেই। এ কাজের জন্য তাদের কোনো ডেডিকেটেড জনবলও নেই।
স্বল্পমেয়াদে আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত সিভিল সার্জন অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সক্ষমতা বাড়ানো। সেখানে ডেডিকেটেড জনবল দিতে হবে। যাঁরা শুধু বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন এবং মনিটরিংয়ের কাজ করবেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতাও দিতে হবে। একজন কর্মকর্তা যদি কোনো অনিয়ম শনাক্ত করেন কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার মতো ক্ষমতা তাঁর না থাকে, তাহলে তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর হবে না।
অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসি তদারকির জন্য একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে যদি এত বড় একটি খাত কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে আলাদা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান তৈরি করাই যৌক্তিক। এটি মানুষের জীবন ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়। তাই অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ফার্মেসি গড়ে ওঠার পর অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়াই সমাধান হতে পারে না। বরং এমন একটি ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগই না পায়।’